...|...|...

লাইফস্টাইল

রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমালে বাড়ে ২ মারাত্মক রোগের ঝুঁকি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৪:১৭
Shares
রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমালে বাড়ে ২ মারাত্মক রোগের ঝুঁকি

ছবি: সংগৃহীত

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অনিদ্রা কিংবা নাইট শিফটে কাজ করার অভ্যাসের কারণে হাঁটু ও নিতম্বের অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা অস্থিসন্ধির ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। যুক্তরাজ্যের প্রায় ৫ লাখ বয়স্ক মানুষের ওপর পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি এক স্বাস্থ্য গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘আর্থ্রাইটিস কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ’-এ প্রকাশিত এই গবেষণার বরাতে খবরটি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘সামা টিভি’।

যুক্তরাজ্যের ‘ইউকে বায়োব্যাংক’-এর ডাটাবেজ ব্যবহার করে ৮ থেকে ১৩ বছর ধরে পরিচালিত এই গবেষণায় ঘুমের মেয়াদ, অনিদ্রার লক্ষণ এবং শারীরিক বায়োলজিক্যাল ক্লক বা দৈহিক ঘড়ির ব্যাঘাত কীভাবে হাড় ও জোড়ার ওপর প্রভাব ফেলে, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক ব্যায়াম এবং আঘাত প্রতিরোধ করার পাশাপাশি জয়েন্ট বা জোড়ার সুরক্ষায় রাতের ভালো ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ামক।

কম ঘুমে যে কারণে বাড়ে ঝুঁকি

গবেষণার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যারা রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমান, পর্যাপ্ত ঘুম পাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় তাদের হাঁটুর সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৪১ শতাংশ এবং নিতম্বের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি ৩৯ শতাংশ বেশি।

এ ছাড়া যাদের রাতে ঠিকমতো ঘুম আসতে চায় না বা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদেরও অস্থিসন্ধির রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩৪ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দেখা গেছে। রাতে শিফটিং ডিউটি বা নাইট শিফটে কাজ করা কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও হাঁটুর জটিলতা তৈরি হওয়ার মাত্রা লক্ষণীয়ভাবে বেশি।

তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, এটি মূলত অনিদ্রার সাথে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকির একটি সম্ভাব্য সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরে, কিন্তু ঘুম কম হওয়াই সরাসরি এই রোগের একমাত্র কারণ কি না—তা শতভাগ নিশ্চিত হতে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস কী?

অস্টিওআর্থ্রাইটিস হলো এক ধরনের জটিল ও ক্ষয়জনিত জয়েন্টের রোগ। এতে হাড়ের সংযোগস্থলে থাকা সুরক্ষা বলয় বা কার্টিলেজ (নরম তরুণাস্থি) ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে থাকে।

কার্টিলেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আক্রান্ত ব্যক্তি তীব্র ব্যথা, জয়েন্ট জমে যাওয়া (স্টিফনেস) এবং স্বাভাবিক হাঁটাচলা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে প্রচণ্ড কষ্টে ভোগেন। রোগটি সাধারণত হাঁটু ও নিতম্বকে বেশি প্রভাবিত করে। সাধারণত চিকিৎসকেরা জয়েন্ট ভালো রাখতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা ও আঘাত মুক্ত থাকার পরামর্শ দেন। তবে নতুন এই গবেষণা ইঙ্গিত করছে যে অস্থিসন্ধির ক্ষয় রোধে ঘুমের অভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া সমান জরুরি।

ঘুমের ব্যাঘাতে কীভাবে জয়েন্টের ক্ষতি হয়?

মানুষের শরীরের ভেতরের একটি অদৃশ্য ঘড়ি থাকে, যাকে ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বা দৈহিক ঘড়ি বলা হয়। এটি টিস্যু বা কলার মেরামতসহ দেহের নানা জৈবিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্টিলেজ বা তরুণাস্থির কোষগুলোর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ জৈবিক ছন্দ থাকে, যা তাদের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ঘুম ব্যাহত হলে বা কাজের সময় অনিয়মিত হলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ঘুমের সমস্যায় শরীরে প্রদাহের (ইনফ্ল্যামেশন) প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি পায় এবং ব্যথাবোধ করার প্রবণতা বেড়ে যায়। এসব উপাদান একত্রে জয়েন্টের কার্যকারিতা ও স্বাচ্ছন্দ্য পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

দীর্ঘমেয়াদে হাড় ও জয়েন্টের সুস্থতা বজায় রাখতে ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঘুমকেও সমান প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাভাবিক ক্ষেত্রে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়, যদিও ব্যক্তিভেদে এই প্রয়োজন কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। ঘুমের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলা এবং দীর্ঘদিনের অনিদ্রার সমস্যা সমাধান করা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক। অন্যদিকে, নাইট শিফটে কাজ করা ব্যক্তিদের শরীর তার প্রাকৃতিক ঘুম-জাগরণ চক্রের বিপরীতে কাজ করায় তাঁদের বাড়তি শারীরিক ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘুম ও সার্কাডিয়ান রিদম মানুষের শারীরিক স্বাস্থ্যের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত—তা বুঝতে এই গবেষণা একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে ঘুম উন্নত করলেই সরাসরি অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব কি না, তা জানতে বিজ্ঞানীদের আরও বিস্তারিত প্রমাণ ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।