...|...|...

বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরও কঠোর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৪৪ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:১৪
Shares
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরও কঠোর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র আবার বড় ধরনের সামরিক হামলা চালালে আগের চেয়ে আরও বিস্তৃত ও কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়ার নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। একই সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সাথে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখলেও কোনো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

তিন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা ও একাধিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, মার্কিন বাহিনী নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে জবাবের পরিধি কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাররা পর্যালোচনা করছেন।

নতুন এই পরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশসমূহ এবং অঞ্চলের বাইরের বেশ কিছু কৌশলগত স্থানকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা মিত্র গোষ্ঠীগুলোকেও সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং পরবর্তী ৪০ দিনের যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি হলেও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ থামেনি। সম্প্রতি নিউইয়র্ক থেকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশে ফেরার পর তেহরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবার শুধু প্রতীকী জবাব দিয়ে ক্ষান্ত হতে চায় না; বরং যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে ফেলতে চায়।

এদিকে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও একেবারে বন্ধ করেনি ইরান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে একটি প্রস্তাব পাঠায় তেহরান। এতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং ১২ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা তহবিল ছাড়ের শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা বার্তা পাঠিয়েছেন, যা বর্তমানে তেহরানে পর্যালোচিত হচ্ছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, ওয়াশিংটন তাদের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনায় যুক্ত করতে চাইলেও ইরানের নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ ছাড়া তা সম্ভব নয়।

দীর্ঘদিনের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও তেল রপ্তানি বন্ধ থাকায় ইরানের ওপর প্রচণ্ড অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে, যার ফলে সীমিত মাত্রার পরোক্ষ আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো বড় সমঝোতার আশা দেখছেন না দুই দেশের বিশ্লেষকরা।