লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দুজনই ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে দুজনের চিত্র এখন একেবারেই ভিন্ন। মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে মহাসমারোহে শেষ ম্যাচ খেলে পেয়েছেন সতীর্থ-সমর্থকদের ভালোবাসা। অন্যদিকে কোচ জর্জ জেসুসের সাথে বিরোধের জেরে পর্তুগালের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার পর রোনালদোর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে রোনালদোর ক্যারিয়ার তিক্ততায় শেষ হওয়ার সম্ভাবনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকার।
গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পর্তুগাল শিবির ছাড়ার কারণ জানিয়ে দীর্ঘ বিবৃতি দেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। সেখানে কোচ জর্জ জেসুসের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন তিনি। এর বিপরীতে আগের দিন আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেন মেসি। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি আর্জেন্টিনা জেতে ৩-০ গোলে। স্টামফোর্ড ব্রিজে ‘লিডার্স উইক’ স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সে সাংবাদিকদের লিনেকার বলেন, ‘বিষয়টি কিছুটা দুঃখজনক বলেই আমার মনে হয়, কারণ তিনি (রোনালদো) এতটাই দুর্দান্ত এক খেলোয়াড়। পাঁচ বা দশ বছর পর কেউ এই ঘটনার কথা মনে রাখবে না। আমরা শুধু মনে রাখব তিনি কতটা মহান ছিলেন। মেসির বিদায়টা ছিল ভীষণ সুন্দর। ক্রিশ্চিয়ানোও ঠিক একই রকম বিদায় পাওয়ার যোগ্য।’
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসির বিদায়ের মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টালে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তরাও তাকে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় বিদায় জানান। লিনেকারের মতে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদোর ক্ষেত্রেও এমন সম্মানজনক বিদায়ই প্রাপ্য।
দুজনের বর্ণিল ক্যারিয়ারের বড় একটি সময় কেটেছে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। সর্বকালের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পাওয়ার লড়াইয়ে বারবার মুখোমুখি হয়েছেন তারা। ব্যক্তিগত সাফল্যেও রয়েছে বড় পার্থক্য রোনালদো পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, আর মেসির দখলে রয়েছে রেকর্ড আটটি।
মেসির বিদায় যেখানে উদযাপন ও আবেগে ভরা, সেখানে রোনালদোর শেষ অধ্যায় এখনো অনিশ্চিত। সেই কারণেই পর্তুগিজ তারকার জন্যও মেসির মতোই মর্যাদাপূর্ণ বিদায় চান লিনেকার।


