লিওনেল মেসি যখন আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ফেলেছেন, ঠিক সেই দিনেই নিজের জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড জানিয়েছেন, জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত তার নেই। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর ফিট থাকলে পর্তুগালের হয়ে আগের মতোই মাঠে নেমে লড়াই করতে চান তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সাম্প্রতিক জাতীয় দলের ক্যাম্পে ঘটে যাওয়া ঘটনা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন রোনালদো। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচকে ঘিরে কোচের সাথে তার কথাবার্তা, মাঠে নামার প্রতিশ্রুতি, ওয়ার্ম-আপ করেও খেলতে না পারা এবং পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচের বক্তব্য নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
‘জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ক্যাম্পে আসলে কী ঘটেছিল তা সরাসরি ব্যাখ্যা করতে চাই।
বিশ্বকাপের পর, এফপিএফ (পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন) সভাপতি আমাকে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানান এবং বর্তমান কোচের ব্যাপারে আমার মতামত জানতে চান। আমি বলেছিলাম, তিনি সঠিক পছন্দ হবেন।
গত আগস্টে কোচ আমাকে জানান, আমি তার প্রকল্পের একটি মৌলিক অংশ আমি প্রথম এবং শেষ ম্যাচ দুটি খেলব। তিনি আমাকে বাইরের (অ্যাওয়ে) ম্যাচগুলো এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করি একজন অধিনায়ক কখনো ঘরে বসে থাকতে পারে না। কুতিনহো এর সাক্ষী ছিলেন।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দিন কোচ আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি ৩০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত কি না। এটি পূর্বপরিকল্পনায় ছিল না, তবুও আমি রাজি হই। আমি প্রথমার্ধের বিরতির পর থেকে ওয়ার্ম-আপ করি, কিন্তু আমাকে আর মাঠে নামানো হয়নি। তিনি তার কথা রাখেননি। ম্যাচ শেষে সমর্থকদের অভিবাদন না জানানো আমার ভুল ছিল, এর জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি।
৪৮ ঘণ্টা পর, কুতিনহোর উপস্থিতিতে আমরা একমত হই যে, কোচ সংবাদ সম্মেলনে সত্য বিষয়টি বলবেন পুরো পরিকল্পনাটি তার ছিল, আমি নিজে খেলার জন্য অতিরিক্ত সময় চাইনি এবং আমাকে মাঠে না নামিয়ে ওয়ার্ম-আপ করানোটা তার ভুল ছিল। তিনি আমি সেই পয়েন্টগুলো নিয়ে একটি ছোট নথিতে সম্মতি দিয়েছিলাম।
সেদিন সকালেও আমি সভাপতি ও কোচকে বলেছিলাম আপনারা আমাকে না চাইলে শুধু সরাসরি বলে দিন। তারা দুজনই আমাকে দলে চান বলে জানান।
অথচ সংবাদ সম্মেলনটি আমাদের সম্মতির ধারেকাছেও ছিল না। সেখানে আমার বিরুদ্ধে এমন কড়া কথা বলা হলো, যা আমার প্রাপ্য ছিল না। এটি ছিল দ্বিতীয়বার, যখন তিনি তার কথা ভাঙলেন।
গত প্রায় ২৫ বছরে আমি কখনো কোচের টেকনিক্যাল সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করিনি। কিন্তু যখন আমার সাথে দেওয়া কথা রাখা হয় না, তখন সেখানে আমার থাকা সাজে না।
দল ছেড়ে আসার জন্য আমি আমার সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। সব দায়ভার একান্তই আমার। এফপিএফ-এর উচিত আমাকে কোনো ছাড় না দিয়ে শাস্তি দেওয়া দলনেতা হিসেবে এটি আমার অপরাধের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
এখন বিদায়ী ম্যাচের বিষয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু যখন অনাহারে ছিলাম, তখনই শিখেছি কেউ কাউকে বিনামূল্যে কিছু দেয় না। আমার কাছে জাতীয় দল মানে প্রতিযোগিতা।
আমার বাবা যখন মারা যান, তখনও আমি পরের ম্যাচটি শেষ হওয়া পর্যন্ত দলের সাথেই ছিলাম। দেশের জন্য আমি তা করেছি।
আমার নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আমি যদি ফিট থাকি, তবে পর্তুগালের হয়ে জয়ী হতে এবং লড়াই করতে বরাবরের মতোই প্রস্তুত থাকব।’
রোনালদোর এই বিবৃতিতে স্পষ্ট হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় দল থেকে তার সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই। বরং নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে শারীরিকভাবে ফিট থাকলে পর্তুগালের জার্সিতে আবারও মাঠে নামার প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি। মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের সমাপ্তির দিনে রোনালদোর এমন ঘোষণা তাই ফুটবলবিশ্বে আলাদা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



