আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক পথচলার শেষ রাতটি সাজানো হয়েছিল বিশেষ আয়োজনে। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিদায়ী ম্যাচ শেষ করার পর মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের আকাশে ড্রোনের আলোয় ফুটিয়ে তোলা হয় মেসির ক্যারিয়ারের নানা স্মরণীয় অধ্যায়। মাঠে সতীর্থদের সাথে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখেন ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন তারকা।
বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় বিশেষ ড্রোন শো। তখন মাঠে ছিলেন মেসি ও তার সতীর্থরা। অন্ধকার আকাশে শত শত আলোকিত ড্রোনের সমন্বয়ে একের পর এক ফুটে উঠতে থাকে জাতীয় দলের হয়ে মেসির গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তার করা স্মরণীয় গোলের দৃশ্যও তুলে ধরা হয় এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে।
ড্রোন শোয়ের অন্যতম আবেগঘন দৃশ্য ছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পর ট্রফিতে চুম্বনরত মেসির ঐতিহাসিক ছবিটি ড্রোনের আলোয় আকাশে ফুটিয়ে তোলা হয়। বিশ্বকাপ জয়ের সেই দৃশ্য আবারও চোখের সামনে হাজির হওয়ায় বিদায়ী আয়োজনটিতে যোগ হয় বাড়তি আবেগ।
সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়ে পুরো ড্রোন শো দেখেন মেসি। এ সময় তাকে আবেগাপ্লুতও দেখা যায়। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুই দশকের বেশি সময় ধরে যেসব মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন, বিদায়ের রাতে সেগুলোই যেন একে একে ফিরে আসে মনুমেন্টালের আকাশে।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের সমাপ্তি ছিল না। এটি ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেরও প্রতীকী শেষ অধ্যায়। সেই বিদায়কে স্মরণীয় করে তুলতেই তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ও মুহূর্তগুলো আলোর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অর্জনের তালিকায় রয়েছে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, অসংখ্য গোল ও বহু স্মরণীয় ম্যাচ। এর পাশাপাশি রয়েছে কোটি সমর্থকের ভালোবাসা। বেনিনের বিপক্ষে জয় দিয়ে জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হলেও মেসি ও আর্জেন্টিনার সেই দীর্ঘ সম্পর্কের স্মৃতি যে সহজে মুছে যাওয়ার নয়, বিদায়ী রাতের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের আয়োজন যেন সেটিই মনে করিয়ে দিল।


