বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা থামছে না। ভক্ত-সমর্থকদের মনে একটাই প্রশ্ন-কবে নাগাদ বুটজোড়া চিরতরে তুলে রাখবেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার? এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া।
সম্প্রতি একটি আর্জেন্টাইন টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মেসিকে এখনই কোনো জোরপূর্বক অবসরের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।
তাপিয়া বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ এবং ব্যক্তিগতভাবে তার নিজের সিদ্ধান্ত। তাকে স্বস্তিতে থাকতে দিতে হবে। ২০২২ সালেও আমরা নিশ্চিত ছিলাম না সে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলবে কি না। তখন সে জানিয়েছিল, ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চায়। আমার মনে হয়, এবারের বিশ্বকাপে আমরা হয়তো মেসির ক্যারিয়ারের সেরা সংস্করণটি দেখিনি, তবে একটি দারুণ সংস্করণ ঠিকই উপভোগ করেছি।’
মেসিকে কোনো রকম চাপে না রেখে স্বাধীনভাবে খেলা উপভোগ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এএফএ সভাপতি আরও যোগ করেন, ‘ওকে নিজের মতো থাকতে দিন। ওকে ফুটবল উপভোগ করতে দিন, এরপর ও নিজেই নিজের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’
গত জুনে ৩৯ বছর পূর্ণ করা মেসি অবশ্য নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কিছু জানাননি। তবে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা যৌথ আয়োজনের বিশ্বকাপটিতে দারুণ ছন্দে ছিলেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করেন মেসি। ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনা হেরে রানার্সআপ হলেও ব্যক্তিগত অর্জনে আলো ছড়িয়েছেন তিনি।
এই আসরেই ফুটবলের অন্যতম বড় এক রেকর্ড ভেঙে দেন মেসি; জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজার বিশ্বকাপ ফুটবলে করা ১৬ গোলের সর্বকালের রেকর্ড টপকে যান তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত ২২ গোল করে তাকে ছাড়িয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে।
লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে ক্লদিও তাপিয়া বলেন, ‘লিওর একটি দুর্দান্ত বিশ্বকাপ কেটেছে। আমরা সবাই তা দারুণভাবে উপভোগ করেছি এবং আমাদের এটি নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত। সে ছিল এই দলের পতাকাবাহী। পুরো বিশ্বকাপ বিশ্লেষণ করলে আমার চোখে সে-ই ছিল আসরের সেরা খেলোয়াড়। মাঠে নেমেই সে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রেকর্ড ভেঙে চলেছে।’



