টেখা জমাইয়া কিতা করতাম, মরার পরে টেকা কে খাইবো, মানুষের সেবা করিয়া বেহেস্তে যাইতাম চাই। কথাগুলো বলছিলেন মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুলাউড়ার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এম এ গণী আদর্শ ডিগ্রি কলেজে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমপি শকু বলেন, অতীতের এমপিরা যারা ছিলেন, তাদের কেউই কুলাউড়ার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেননি। উন্নয়ন না করে নিজেদের পকেট ভরেছেন। আমি পকেট ভরতে আসিনি।
তিনি বলেন, আমি আছি কুলাউড়া নিয়ে, ফর কুলাউড়া, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। কুলাউড়াকে নিয়ে তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এমপি শকু বলেন, কুলাউড়া একটি সম্ভাবনাময় উপজেলা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। তিনি বলেন, আমি টাকার পেছনে ছুটছি না। জনগণ আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আমি সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমার কোনো অভাব নেই। আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন। এখন আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমার রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের সেবার জন্য।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় তিনি বলেন, টেখা জমাইয়া কিতা করতাম, মরা পড়ে টেকা কে খাইবো, মানুষের সেবা করিয়া বেহেস্তে যাইতাম চাই।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তার বক্তব্যে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, এমন জনবান্ধব বক্তব্য দীর্ঘদিন শোনেননি তারা। তিনি কুলাউড়ার শিক্ষা উন্নয়নে এমপির সহযোগিতা কামনা করেন।
পরে এমপি শকু কলেজের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এম এ গণী কলেজের উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, তিনি তা করবেন।
স্থানীয়দের মতে, কুলাউড়ার রাজনীতিতে শকু একটি নতুন ধারা তৈরি করতে চাইছেন। তার ব্যতিক্রমী বক্তব্য ও সাদামাটা চলাফেরা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের সাথে কিছু সময় কাটান এবং তাদের লেখাপড়ার খোঁজখবর নেন।


