মহাকাশে প্রথমবারের মতো বিরল সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান, বিস্মিত বিজ্ঞানীরা
মহাকাশে বিরল সবুজ আভাযুক্ত একটি শ্বেত বামন নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। গ্রহের ধ্বংসাবশেষ থেকে আসা রাসায়নিক উপাদানের বিশেষ আচরণের কারণে নক্ষত্রটিতে তৈরি হয়েছে হলুদাভ-সবুজ আভা। নক্ষত্রের এমন অস্বাভাবিক রং বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, ‘ডব্লিউডি জে১৩৩০+৬৪৩৫’ নামের এই শ্বেত বামনটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২৮০ আলোকবর্ষ দূরে, ড্রাকো নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত। এটি মূলত একটি মৃতপ্রায় নক্ষত্রের অবশিষ্ট কেন্দ্র। কোনো নক্ষত্রের পারমাণবিক জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে তার বাইরের স্তর মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। অবশিষ্ট কেন্দ্রটি তখন অত্যন্ত ঘন শ্বেত বামনে পরিণত হয়।
সাধারণত নক্ষত্রের রং তার তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। তুলনামূলক শীতল নক্ষত্র কমলা বা লালচে দেখায়, সূর্যের মতো নক্ষত্র সাদা বা হলুদাভ এবং বেশি উত্তপ্ত নক্ষত্র নীল আভাযুক্ত হয়। তবে শ্বেত বামনের ক্ষেত্রে তাপমাত্রার পাশাপাশি এর বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক উপাদানও রং নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডস বলেন, নক্ষত্রটির পৃষ্ঠে গ্রহের বিভিন্ন উপাদান জমা হওয়ার বিষয়টি প্রথমে গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এর ফলে নক্ষত্রটির বাইরের স্তরে ক্যালসিয়াম, লিথিয়াম এবং বিশেষ করে সোডিয়ামের আধিক্য তৈরি হয়েছে। গবেষণাটি ‘আরএএস টেকনিকস অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্টস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
সাধারণ অবস্থায় সোডিয়াম নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কমলা আলো শোষণ করে। কিন্তু এই শ্বেত বামনের ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এর চারপাশের হিলিয়াম পরমাণু সোডিয়াম পরমাণুর সঙ্গে বারবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে সোডিয়ামের শক্তিস্তরে পরিবর্তন ঘটে। ফলে সোডিয়াম শুধু কমলা আলোর একটি নির্দিষ্ট অংশ নয়, হলুদ, কমলা ও লাল আলোর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যও শোষণ করতে পারে। এর ফলে নক্ষত্রটির আলোতে হলুদাভ-সবুজ আভা তৈরি হয়।
গবেষণার সহলেখক ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী বরিস গ্যানসিকে বলেন, শ্বেত বামনের আকার প্রায় পৃথিবীর সমান হলেও এর ভর সূর্যের ভরের প্রায় অর্ধেক হতে পারে। এত অল্প জায়গায় বিপুল ভর কেন্দ্রীভূত থাকায় সামান্য পরিমাণ সোডিয়ামও নক্ষত্রটির আলো শোষণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষকেরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা ১৫১টি শ্বেত বামনের রং নিয়েও গবেষণা করেছেন। এসব নক্ষত্রের অধিকাংশের গড় রং ছিল সাদা। তবে এর মধ্যে ‘ডব্লিউডি জে১০১১+২৮৪৫’নামের একটি শ্বেত বামনে স্যামন মাছের মাংসের মতো গোলাপি আভা দেখা গেছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৪৮ আলোকবর্ষ দূরে লিও মাইনর নক্ষত্রমণ্ডলে থাকা এই নক্ষত্রটির রং পরিবর্তনের পেছনে সোডিয়াম নয়, কার্বন ভূমিকা রেখেছে।
গবেষকেরা নিউ মেক্সিকোতে অবস্থিত টেলিস্কোপের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য, স্লোয়ান ডিজিটাল স্কাই সার্ভের আলোর বর্ণালি এবং নিজেদের তৈরি শ্বেত ব



