...|...|...

বিশ্ব

সৌদি আরবকে রক্ষায় ‘যেকোনো পদক্ষেপ’ নিতে প্রস্তুত মিশর: সিসি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:০২
Shares
সৌদি আরবকে রক্ষায় ‘যেকোনো পদক্ষেপ’ নিতে প্রস্তুত মিশর: সিসি

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘যেকোনো পদক্ষেপ’ নিতে প্রস্তুত মিশর। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষামূলক সহায়তার অনুরোধ এলে তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনে জরুরি অধিবেশনে পার্লামেন্টের অনুমোদনও নেওয়া হবে।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, শনিবার (১৭ অক্টোবর) মিশরীয় সামরিক একাডেমির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় সিসি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সৌদি আরবকে সুরক্ষায় মিশর যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য যুদ্ধ শুরু করা বা অন্য কোনো দেশকে আক্রমণ করা নয়; বরং আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা, বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের হামলার প্রেক্ষাপটে মিশরের এই অবস্থান সামনে এসেছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং লোহিত সাগরে নৌ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত মাসে কায়রোতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন সিসি। ওই বৈঠকে লোহিত সাগরে নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান জানায় মিশর। দেশটির প্রেসিডেন্সির পক্ষ থেকে বলা হয়, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা মিশরের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব নিজের ভূখণ্ডের পাশাপাশি লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতা চাইছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তার সঙ্গে মিশরের স্বার্থও জড়িত। কারণ, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট এবং সুয়েজ খাল থেকে মিশর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করে।

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে।

সৌদি আরবের অভিযোগ, ইরান হুতিদের হামলায় উৎসাহ ও সহায়তা দিচ্ছে। তবে তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং সংঘাত অবসানে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় মিশরের সম্ভাব্য ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।