যুক্তরাজ্যের প্রখ্যাত সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি বলেছেন, দোহায় যখন আমরা মধ্যস্থতা করছিলাম এবং সেই সময় ট্রাম্পের প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম, ঠিক তখনই ইসরায়েল আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী মনে করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ মোহাম্মদ বলেন, অবশ্যই। গাজায় যা সংঘটিত হয়েছে তা যুদ্ধাপরাধ, এবং এর জন্য যে বা যারা দায়ী, সে অবশ্যই একজন যুদ্ধাপরাধী।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, স্কুলগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। যত যুক্তি বা অজুহাতই দেওয়া হোক না কেন, এর কোনো কিছুই এই কর্মকাণ্ডকে ন্যায়সঙ্গত বলে প্রমাণ করতে পারে না।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ইসরায়েলি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেন। কাতার যখন মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় ব্যস্ত ছিল, ঠিক সে সময় ওই হামলায় হামাসের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সেই হামলায় পাঁচজন হামাস সদস্য এবং একজন কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন। মধ্যস্থতাকারীদের ওপর এমন নজিরবিহীন হামলার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু এর আগের মতো এবারও সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছেন।
এতদ্সত্ত্বেও কাতার কূটনৈতোক প্রচেষ্টাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া অব্যাহত রাখবে বলে জানান শেখ মোহাম্মদ। তিনি উল্লেখ করেন যে, পর্দার আড়ালের কূটনৈতিক যোগাযোগই অগ্রগতি অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তিনি আরও বলেন, আমরা মার্কিন প্রশাসন এবং ইরান—উভয় পক্ষকেই একটি সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে সর্বোত্তম পরামর্শ দেওয়ার জন্য আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।
বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়ে তিনি জানান যে, যুদ্ধ নিরসনের জন্য মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের সমাধান করা প্রয়োজন: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে অবাধ নৌচলাচল, এবং ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (পিসিজিসি) রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, যেকোনো আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো পারস্পরিক সংলাপ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং অ-আক্রমণ নীতির পাশাপাশি বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা উচিত।
এদিকে, এর আগে মঙ্গলবার আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়, কাতারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন যে কাতার তার মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিভিন্ন বার্তা আদান-প্রদান করছে। তিনি আরও জানান যে, কাতার এখনো সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছে।


