সৌদি আরব ও তুরস্কের সাথে গঠিত প্রতিরক্ষা চুক্তিটি নতুন অংশীদারদের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে প্রসারিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। একই সাথে এই চুক্তিটি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক এবং এর সাথে ইরানের সম্পর্কের কোনো সংঘাত নেই বলেও জোর দিয়ে জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আল আরাবিয়া ইংলিশের টম বার্জেস ওয়াটসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, অহিংসা, অহস্তক্ষেপ এবং যৌথ প্রতিরোধের দৃষ্টিভঙ্গি যেসব দেশ শেয়ার করবে, সেই নতুন ইচ্ছুক অংশীদারদের এই চুক্তিটি ‘সবসময়ই অন্তর্ভুক্ত করতে পারে’। এই জোট কীভাবে বা কখন প্রসারিত হতে পারে, সে বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের শীর্ষ নেতৃত্বের রয়েছে বলে জানান তিনি।
এই চুক্তিটি বৃহত্তর কোনো মুসলিম সামরিক ব্লকের আত্মপ্রকাশ কি না—এমন ধারণা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী। তিনি বলেন, এই চুক্তিতে এমন কিছু নেই যা বলে যে এটি একটি মুসলিম জোট। এর পরিবর্তে এটিকে একটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জোট হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
পাকিস্তানের এই সামরিক মুখপাত্র জানান, চুক্তিটি এই তিন দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে এবং এটি যৌথ প্রতিরোধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তিনি বলেন, এতে আক্রমণাত্মক, হস্তক্ষেপমূলক বা আগ্রাসী কোনো উপাদান নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির।
এই জোটের ফলে ইরানের প্রতি পাকিস্তানের অবস্থান জটিল হয়ে পড়ে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান যে তা হয় না, কারণ ইসলামাবাদ প্রতিটি দেশের সাথে স্বাধীনভাবে সম্পর্ক বজায় রাখে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের সম্পর্ক স্বাধীন এবং তা ইরানের মূল্যে বা খরচে নয়। সেগুলো চীনের মূল্যেও নয়।
তিনি আরও যোগ করেন যে অন্যান্য দেশের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক একইভাবে যোগ্যতা এবং পারস্পরিক সুবিধার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও অব্যাহত রেখেছে পাকিস্তান। লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী জানান, সংঘাত যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে এবং একটি সমঝোতাপূর্ণ সমাধানের দিকে পৌঁছানো যায়, সেজন্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব সব পক্ষের সাথেই যোগাযোগ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তান যে একমাত্র উদ্দেশ্যটি নিয়ে কাজ করছে তা হলো—সংঘাত যেন অনুভূমিক বা উল্লম্ব—কোনো দিক থেকেই আর না বাড়ে। ইসলামাবাদ চায় মতপার্থক্যগুলো আকাশ, স্থল বা নৌ ক্ষেত্রে মীমাংসা হওয়ার বদলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক। তবে মধ্যস্থতার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত বিবরণ দিতে তিনি রাজি হননি এবং বলেন যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালনের জন্য পাকিস্তানকে এই অবস্থান বজায় রাখতে হবে।
তিনি জানান, পাকিস্তানের নেতৃত্ব সব পক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছেন যাতে সামরিক সমাধানের পরিবর্তে আমরা এই অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির একটি সমঝোতাপূর্ণ ফলাফলে পৌঁছাতে পারি।
চৌধুরী যুক্তি দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ের সাথেই দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক থাকার কারণে মধ্যস্থতা করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান দারুণ অবস্থানে রয়েছে। আমেরিকার সাথে পাকিস্তানের একটি প্রতিষ্ঠিত সম্পর্ক রয়েছে এবং ইরানের সাথে তাদের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ, প্রতিবেশীসুলভ এবং অত্যন্ত কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


