সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের বেতন ও ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। এর ফলে বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত ওংয়ের বার্ষিক আয় ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি বাড়বে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সিঙ্গাপুর সরকার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানো হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ওংয়ের বার্ষিক বেতন ও ভাতার প্যাকেজ ১৪ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার বাড়বে। বর্তমানে তিনি বছরে ২২ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার পান। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তা বেড়ে ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারে দাঁড়াবে, যা ২৮ লাখ মার্কিন ডলারের সমান।
ওং জানিয়েছেন, বেতন বৃদ্ধির অতিরিক্ত অর্থ তিনি আগামী পাঁচ বছর দাতব্য কাজে দান করবেন।
বেতন বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় আরও যোগ্য ও মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে প্রতিযোগিতামূলক বেতন প্রয়োজন। তাঁর মতে, ব্যবসায়ী নেতা ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে আর্থিক বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়।
বর্তমানে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার মার্কিন ডলার এবং সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার ডলার আয় করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্ষিক বেতন ৪ লাখ ডলার এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের আয় প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
তবে সিঙ্গাপুরে এই বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। দেশটির সাধারণ নাগরিকদের তুলনায় মন্ত্রীদের আয় অনেক বেশি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে মাসিক মধ্যম আয় ৫ হাজার ৭৭৫ সিঙ্গাপুর ডলার।
সরকারের নতুন কাঠামো অনুযায়ী, মন্ত্রীদের মূল বেতন প্যাকেজও প্রায় ১১ লাখ থেকে বেড়ে ১২ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারে দাঁড়াবে। কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে তা আরও বাড়িয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার করা হতে পারে।
মন্ত্রীদের বেতনের একটি অংশ নির্ধারণ করা হয় বেকারত্বের হার, আয় বৃদ্ধি ও মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক সূচকের ভিত্তিতে।
সিঙ্গাপুরের ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের সমালোচনার অন্যতম বিষয় মন্ত্রীদের উচ্চ বেতন। ২০১১ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলটি কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোট পাওয়ার পর ২০১২ সালে মন্ত্রীদের বেতন কমানো হয়েছিল।
সরকারের দাবি, উচ্চ বেতন মন্ত্রীদের দুর্নীতি থেকে দূরে রাখতে সহায়ক। তবে সাম্প্রতিক কর্মী ছাঁটাই, নতুন স্নাতকদের কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করেছেন অনেকে।
অন্যদিকে, সমর্থকদের যুক্তি—দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্যতম ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করতে উচ্চ বেতন প্রয়োজন।


