...|...|...

বিশ্ব

সৌদি পাইপলাইন বন্ধ

বিশ্বব্যাপী ৪ শতাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৫৭
Shares
বিশ্বব্যাপী ৪ শতাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

লোহিত সাগরে যাওয়ার প্রধান পাইপলাইনটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পুনরায় চালু করা না হলে সৌদি আরব রফতানির জন্য তাদের মজুত করা তেল সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলবে। এর ফলে বিশ্ব বাজারে প্রায় ৪ শতাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সৌদি তেল ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীরা।

সৌদি তেল রপ্তানির এই নতুন পতন বিশ্বব্যাপী জ্বালানির সরবরাহ সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। ইতোপূর্বে এই সংকটই জ্বালানির দামকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে গেছে, বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি উসকে দিয়েছে এবং মার্কিন বন্ডের সুদের হার ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর থেকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দিয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরব তাদের বিশাল পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হওয়ার পর থেকে রিয়াদ ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বা পাইপলাইনটি কতদিন বন্ধ থাকবে সে বিষয়ে এখনও কোনো পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দেয়নি।

রয়টার্সের সাথে কথা বলা সূত্রগুলো বিভিন্ন রকম অনুমানের কথা জানিয়েছে। একজন বলেছেন যে ক্ষতি মেরামত করতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, অন্যদিকে অপর একজন জানিয়েছেন যে এটি দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হতে পারে এবং মেরামত চলমান থাকা অবস্থাতেই আংশিকভাবে পাম্পিং বা তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু করা যেতে পারে।

সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্যের কোনো জবাব দেয়নি। বিগত ছয় মাস ধরে আরব উপদ্বীপের মরুভূমির বুক চিরে চলা এই পাইপলাইনটি প্রতিবেশী দেশগুলোর রপ্তানি পঙ্গু করে দেওয়া হরমুজ প্রণালীর যুদ্ধকালীন অচলাবস্থার ধাক্কা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষা করে আসছিল।

বিশ্বের বৃহত্তম এই তেল রফতানিকারক দেশ প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল—যা বিশ্ব সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ—লাল সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পুনর্বিন্যস্ত করতে এই পাইপলাইন ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় সৌদি রপ্তানি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এমন তিনজন শিল্পূত্র জানিয়েছেন যে, ইয়ানবু বন্দরের বর্তমান মজুতে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন তেল রফতানি বজায় রাখা সম্ভব হবে। চতুর্থ আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, মিশরের লোহিত সাগরের আইন সুখনা এবং ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির বন্দর থেকেও কয়েক দিনের জন্য গ্রাহকদের তেল সরবরাহ করার মতো মজুত সৌদি আরবের রয়েছে।

শিল্পখাতের তথ্য অনুযায়ী, ইয়ানবুর সংরক্ষণ ক্ষমতা প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল, যেখানে আইন সুখনা এবং সিদি কেরির বন্দর যথাক্রমে ১ কোটি ৮০ লাখ ও ২ কোটি ব্যারেল তেল সংরক্ষণ করতে সক্ষম। তবে এই মজুদগুলো সম্পূর্ণ পূর্ণ নয় এবং পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় চালু না হলে একসময় এই মজুদও ফুরিয়ে যাবে, বলে জানিয়েছেন চার সূত্র। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা গত শুক্রবার জানিয়েছে যে, হরমুজ ও লোহিত সাগর দিয়ে সরবরাহ হ্রাসের কারণে গত আগস্টেই সৌদি আরবের তেল সরবরাহ তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

পশ্চিমা জ্বালানি নীতি সমন্বয়কারী সংস্থা আইইএ জানিয়েছে, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ৫৭ লাখ বিপিডি (প্রতিদিন ব্যারেল) বা প্রায় ৬ শতাংশ হ্রাস পাবে। পাইপলাইনের ওপর হামলার পাশাপাশি, সৌদি তেল চালানের ওপর হুমকি দেওয়া ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা গত শুক্রবার লোহিত সাগরের মোহনায় একটি দ্বীপ দখল করে নিয়েছে।

যুদ্ধের আগে মধ্যপ্রাচ্য প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করত। শিল্প সূত্রের তথ্য মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ এখন কমে দৈনিক মাত্র ৬০ লাখ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেলের মধ্যে নেমে এসেছে।

যুদ্ধের শুরুর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যেখানে সৌদি আরবের তেল উৎপাদন ছিল দৈনিক ১ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল, তা কমে গত আগস্টে মাত্র ৬২ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে বলে গত সপ্তাহে ওপেকের কাছে জানিয়েছে সৌদি আরব।