যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যালিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট’-এর প্রথম মামলায় এক আফগান নারীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএল/আইএসআইএস)-কে সমর্থনের অভিযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়।
শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, নাজিরা হাজি জাদাকে ওই বিশেষ আদালতে হাজির করার পর আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
৪৭ বছর বয়সী হাজি জাদা টেক্সাসের ফোর্ট ওর্থে বসবাস করতেন এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৪ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চলতি বছরের ১৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ তার বহিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেন।
পরে হাজি জাদা নিজের আটকের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোর অধিকার ত্যাগ করেন এবং তাকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।
মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ, ২০২৪ সালের নির্বাচনের দিন ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে আইএসআইএল-অনুপ্রাণিত একটি গণগুলির ষড়যন্ত্র গোপন করতে সহায়তা করেছিলেন হাজি জাদা। তবে তার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি।
ওই ঘটনায় তার ছেলে আবদুল্লাহ হাজি জাদা এবং জামাতা নাসির আহমদ তাওহিদি সংশ্লিষ্ট অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন।
আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার অংশ হিসেবে ১৯৯৬ সালে মার্কিন কংগ্রেস ‘অ্যালিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট’ গঠন করে। পাঁচজন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত এই বিশেষায়িত ফেডারেল আদালত এতদিন কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল।
এই আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার গোপন তথ্য উপস্থাপন করতে পারে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করতে আদালতের অনুমোদিত একটি অ-গোপনীয় সারসংক্ষেপও দিতে হয়। একইসঙ্গে সরকারকে প্রমাণ করতে হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন ‘বিদেশি সন্ত্রাসী’।
তবে হাজি জাদার আইনজীবীরা আদালতের কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার আইনজীবীদের সামনে ব্যবহৃত প্রমাণ উপস্থাপন না করে মামলা পরিচালনা করা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন।
এক বিবৃতিতে তারা বলেন, হাজি জাদার বহিষ্কারে সম্মতি দেওয়াকে আদালতের বৈধতার প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে আদালতের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, “যারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন ও প্রশ্রয় দেয়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা উচিত নয়।”
এর আগে কখনো ব্যবহার না হওয়া এই আদালতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ভবিষ্যতে আরও কোনো মামলা পরিচালনা করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।


