মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ চলে গেলেই নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। জরুরি বিভাগ, শিশু ওয়ার্ড, আইসোলেশন ইউনিটসহ হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতেও নেই পর্যাপ্ত বিকল্প আলোর ব্যবস্থা। ফলে রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগী ও স্বজনদের ভরসা করতে হয় মোবাইল ফোনের টর্চের ওপর।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে দুর্ভোগে পড়তে হয় রোগী ও স্বজনদের। তীব্র গরমে অসুস্থ শিশুদের বাতাস করতে স্বজনদের হাতপাখা নিয়ে বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ৫০ শয্যার একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালের একমাত্র পুরোনো জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেনারেটরটি এখন আর মেরামতযোগ্য নয়। নতুন কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাকআপ ব্যবস্থাও নেই। ফলে সামান্য লোডশেডিং হলেই হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।
এক শিশু রোগীর বাবা বলেন, রাতে বাচ্চাটা জ্বরে কাঁপছে, এদিকে কারেন্ট নাই। ডাক্তার টর্চ দিয়ে দেখলেন। এইটা কি একটা সরকারি হাসপাতালের চিত্র হতে পারে।
হাসপাতালের বিদ্যুৎ সমস্যার মধ্যে কিছুটা আলোর ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় সাংবাদিকদের সংগঠন ‘টিম জার্নালিস্টস কুলাউড়া’। সংগঠনটি নিজস্ব অর্থায়নে হাসপাতালের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চার্জার ব্যাকআপ লাইট স্থাপন করেছে। বিদ্যুৎ চলে গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ওঠে এসব লাইট।
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উৎফল দাশ বলেন, জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নতুন জেনারেটর বরাদ্দের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।


