বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক মঞ্চে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথবাক্য পাঠ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতিকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা ছিল না।’
বঙ্গভবনের জনবিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। বঙ্গভবন শুধু আয়োজকের ভূমিকায় থাকে। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন র জন্য আসন রাখার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা ছিল না। তাই আমরা এমন কোনো ব্যবস্থা রাখিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল কি না এমন প্রশ্ন ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছেও। জবাবে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি আমন্ত্রণ পাইনি। বিষয়টি নিয়ে দুঃখিত ও বিব্রত। আমি আর কিছু বলতে চাই না।’
শরীরের অবস্থা এখন কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শরীর আগের চেয়ে অনেক খারাপ যাচ্ছে। পা ফুলে গেছে।’
স্বাভাবিক হাঁটাচলায়ও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন তিনি।
এর আগে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের কারণ প্রসঙ্গে পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন লেখেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। তার নতুন রোগ শনাক্তের কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই।
রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। সাহাবুদ্দিন ই একমাত্র ব্যক্তি যিনি রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও এতদিন শীর্ষ কোনো সাংবিধানিক পদে বহাল ছিলেন। আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী সরকার এবং সবশেষ বিএনপি; তিন সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।


