...|...|...

সারাদেশ

ফুল গাছ থেকে লাখ টাকা! রাখির বাগানে ৬০০ প্রজাতির বিদেশি চারা

নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৩:৪৬ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১২:৫৫
Shares
ফুল গাছ থেকে লাখ টাকা! রাখির বাগানে ৬০০ প্রজাতির বিদেশি চারা

আতিফা নাসরিন রাখির শখের বাগান। ছবি: টাইমস টুডে

শখের বাগান থেকে শুরু, এরপর ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন নার্সারি। এখন তার বাগানে রয়েছে দেশি-বিদেশি প্রায় ৬০০ প্রজাতির ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছের চারা। এসব চারা বিক্রি করে মাসে লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী গ্রামের উদ্যোক্তা আতিফা নাসরিন রাখি।

ফুল ও গাছের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আগ্রহ ছিল রাখির। নিজের বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার বাগান করার যাত্রা। সময়ের সাথে নতুন নতুন জাতের ফুল ও গাছ সংগ্রহ করতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে শখের সেই বাগানই রূপ নেয় নার্সারিতে।

বর্তমানে রাখির বাগানে রয়েছে প্রায় ৬০০ প্রজাতির বিদেশি ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছের চারা। নানা রঙ ও বৈচিত্র্যের এসব গাছ দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি শৌখিন বাগানপ্রেমীদের কাছেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও দেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তার কাছে গাছের অর্ডার আসে।



রাখি জানান, নার্সারি গড়ে তোলার পথে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা পেয়েছেন তার স্বামী ও শাশুড়ির কাছ থেকে। পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় তিনি নিয়মিত গাছের পরিচর্যা, চারা উৎপাদন, প্যাকেজিং ও বিক্রির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া তার বাগানে ২-৩ জন নিয়মিত কর্মচারী কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুরুতে শুধুই শখ ছিল। নিজের জন্য কয়েকটি ফুলের গাছ লাগিয়েছিলাম। পরে গাছের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মানুষ গাছ কিনতে চাইলে চারা তৈরি করে বিক্রি শুরু করি। এখন এটি আমার ভালো লাগার পাশাপাশি আয়েরও একটি বড় উৎস।

রাখির নার্সারিতে শুধু বিদেশি ফুলের গাছই নয়, রয়েছে বিভিন্ন ধরনের দেশি ফুল, শোভাবর্ধক ও বাহারি গাছের চারাও। নতুন প্রজাতির গাছ সংগ্রহের পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন গাছের চারা উৎপাদনের কাজও করেন তিনি।



তার ভাষ্য, গাছের ব্যবসায় সফল হতে হলে ধৈর্য ও নিয়মিত পরিচর্যার বিকল্প নেই। প্রতিটি গাছের আলাদা পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। কোন গাছে কতটুকু পানি, কী ধরনের মাটি ও সার প্রয়োজন এসব বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেই এগোতে হয়েছে তাকে।

নার্সারিটি পরিদর্শন করে ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না বলেন, আতিফা নাসরিন রাখির উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তিনি শখকে কাজে লাগিয়ে একটি সম্ভাবনাময় নার্সারি গড়ে তুলেছেন।

তার বাগানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে, যা এলাকার মানুষের মধ্যে বাগান করার আগ্রহও তৈরি করছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার সুযোগ থাকলে আমরা তা অব্যাহত রাখব।

কৃষি কর্মকর্তার মতে, বাণিজ্যিকভাবে ফুল ও শোভাবর্ধক গাছের নার্সারি গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শখ থেকে শুরু করা রাখির বাগান এখন পরিণত হয়েছে সম্ভাবনাময় একটি নার্সারিতে। প্রায় ৬০০ প্রজাতির বিদেশি চারার সংগ্রহ আর পরিবারের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এই উদ্যোগ এখন মাসে লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের পথ তৈরি করেছে। তাঁর এই সাফল্য অন্য নারীদেরও গাছপালা ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।