একটি কলমের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে সাধারণত সেটি ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের কলম বছরের পর বছর পরিবেশের ক্ষতি করে। এবার সেই ধারণায় পরিবর্তন আনতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মাদারীপুরের শিবচরের তরুণ উদ্যোক্তা জামাল শিকদার। তিনি তৈরি করছেন এমন এক কাগজের কলম, যা ব্যবহারের পর মাটিতে পুঁতে দিলে সেখান থেকে জন্ম নেবে গাছ।
মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার ডিসি রোডের বাসিন্দা জামাল শিকদার প্লাস্টিকের কলমের বিকল্প হিসেবে তৈরি করছেন সম্পূর্ণ কাগজের কলম। ইতোমধ্যে তিনি এসব কলম বাজারজাতও করছেন। এই কলমের বিশেষত্ব হলো, এর ভেতরে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের বীজ।
উদ্যোক্তা জামাল শিকদার জানান, কাগজের কলমের কালি শেষ হয়ে গেলে সেটি ফেলে না দিয়ে মাটি বা টবে পুঁতে দিলে কিছুদিনের মধ্যেই কাগজ পচে মাটির সাথে মিশে যাবে। এরপর কলমের ভেতরে থাকা বীজ থেকে জন্ম নেবে নতুন চারা, যা ধীরে ধীরে বড় হয়ে পূর্ণাঙ্গ গাছে পরিণত হবে। পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগে তিনি সফলও হয়েছেন।
জামাল শিকদার বলেন, একটি ছোট উদ্যোগও পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা প্রতিদিন যে প্লাস্টিকের কলম ব্যবহার করি, তা ব্যবহারের পর যেখানে-সেখানে ফেলে দেই। এই প্লাস্টিক বর্জ্য সহজে মাটির সাথে মেশে না, পরিবেশ দূষণ করে। তাই আমি চাই মানুষ প্লাস্টিকের কলমের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব কাগজের কলম ব্যবহারে উৎসাহী হোক।
তার মতে, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে পারলেই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব। তার তৈরি কাগজের কলম ব্যবহারে একদিকে যেমন প্লাস্টিক দূষণ কমবে, অন্যদিকে বাড়বে সবুজের পরিমাণ।
শিবচরের এই তরুণ উদ্যোক্তার এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবেশ সচেতন মহল। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে প্লাস্টিক দূষণ রোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


