নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উপস্থিতিতে রোপণ করা ১২টি মেহগনি গাছ উপড়ে ফেলা এবং একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
সোমবার সকালে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশনার পর পুলিশ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট রাতে কলমাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ৩০ আগস্ট মামলাটি থানায় রেকর্ডভুক্ত হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট রাতে অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা হাইওয়ের হিরাকান্দা এলাকায় জড়ো হন। হিরাকান্দা বাজারে মিছিল করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে শপথবাক্য পাঠ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, রাত গভীর হওয়ার পর অভিযুক্তরা কলমাকান্দার দিকে যাওয়ার পথে গুতুরা বাজারে স্থাপিত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা করেন। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
পরে কলমাকান্দা বাজারের দিকে যাওয়ার সময় বাবনি এলাকায় সড়কের পাশে রোপণ করা ১২টি মেহগনি গাছ উপড়ে ফেলা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, গাছগুলো প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলমাকান্দা উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে রোপণ করা হয়েছিল। গাছ রোপণের সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা যায়, গাছ উপড়ে ফেলার খবর পেয়ে গত ২৮ আগস্ট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডেপুটি স্পিকার। এ সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাছগুলো উপড়ে ফেলার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা দুঃখজনক।
তিনি সংশ্লিষ্টদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাছ উপড়ে ফেলার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।
ওসি আরও জানান, মামলায় ভাঙচুরের পরিকল্পনা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সড়কের পাশে রোপণ করা গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


