পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির দেশের বৃহত্তম অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন করেছেন। সীমান্ত এলাকায় বিপুলসংখ্যক ভারী কামান মোতায়েন ও একাধিক দেশের সাথে নতুন সামরিক চুক্তি সম্পাদন নিয়ে ভারতের গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা মহলে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
গত ২৯ আগস্ট ইসলামাবাদের কাছে ওয়াহ সেনানিবাসে অবস্থিত ‘পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ’ (পিওএফ) পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান। সেনাবাহিনী সূত্রে জানানো হয়, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে ও নতুন অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা পর্যালোচনা করতেই তার এই সফর।
তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা এটিকে সাধারণ পরিদর্শনের পাশাপাশি একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবেও দেখছেন।
সম্প্রতি চীন, তুরস্ক ও কুয়েতের সঙ্গে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিগুলোতে চীনা ও তুর্কি সামরিক পরিবহন বিমানের নিয়মিত আনাগোনা এবং সীমান্তে চীনে তৈরি এসএইচ-১৫ ১৫৫ মিলিমিটার স্বচালিত হাউইটজার কামান মোতায়েনের খবর দিল্লির নজর কেড়েছে।
দূর্গাপূজার আগেই পাকিস্তান বড় কোনো অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না, তা নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠলেও আসন্ন আক্রমণের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সামরিক প্রস্তুতির প্রধান লক্ষ্য ভারত নাও হতে পারে। দেশের ভেতর বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং আফগানিস্তান সীমান্তের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা সামাল দিতেও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে ইসলামাবাদ। তা ছাড়া অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটও পাকিস্তানের নীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে।
গত বছর পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের মধ্য দিয়ে দুদেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত হয়েছিল। পরমাণু শক্তিধর এই দুই প্রতিবেশীর মাঝে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক তৎপরতার ওপর নজর রাখছেন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।


