অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার পর ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ভাঙার অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে বাসিন্দাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার স্থান ও আশপাশের এলাকায় এ অভিযান চালানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাঁদের বাড়িঘর থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিকদের বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ভাঙচুরের ঘটনাকে অনুমোদনহীন স্থাপনা উচ্ছেদের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
তবে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের নির্মাণ অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বাধা ও বৈষম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। তাদের বক্তব্য, নির্মাণ অনুমোদন পাওয়ার কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ফিলিস্তিনিদের জন্য বৈধভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় নিরাপত্তা ও ফিলিস্তিননীতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এ ধরনের সংঘাতের পর কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলে কট্টর ডানপন্থি নেতারা নিজেদের সমর্থকদের কাছে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিতে পারেন। তবে হেবরনের সাম্প্রতিক অভিযানের পেছনে নির্বাচনী উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের প্রবেশমুখে একটি সামরিক চেকপোস্টে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন এবং আরও তিনজন আহত হন। হামলাকারীদের দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে জানায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে বিবিসি জানায়, সেনা ও বন্দুকধারীদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সংঘর্ষ প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল।
এই হামলার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার থেকে পুরো পশ্চিম তীরে পূর্ণাঙ্গ লকডাউন কার্যকরের প্রস্তুতি নিতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হেবরনের সাম্প্রতিক ঘটনা পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং এর জেরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের ওপর পড়া প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


