যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির আওতায় ওলেশকি শহরে সাময়িকভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা হবে। এর ফলে শহরটিতে মানবিক সহায়তা পাঠানো এবং নির্ধারিত নিরাপদ পথ দিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে।
মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, ওলেশকির পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন। শহরটিতে অবশিষ্ট বাসিন্দাদের বড় অংশই বয়স্ক। তাদের জরুরি চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার ও বিশুদ্ধ পানি প্রয়োজন। সীমিত বিদ্যুৎ সরবরাহ, মাইন পুঁতে রাখা সড়ক এবং নিয়মিত সামরিক হামলার কারণে বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
ফার্স্ট লেডির দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, মেলানিয়া ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধি রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের সাথে সরাসরি আলোচনা করে যুদ্ধবিরতির শর্ত নির্ধারণে কাজ করেছেন। আলোচনায় যুদ্ধবিরতির সময়সূচি, কারিগরি প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়নপদ্ধতি নিয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানানো হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুই দেশের বেসামরিক প্রতিনিধিরা শহরের বাসিন্দাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের প্রয়োজন নির্ধারণ করবেন। যারা শহর ছেড়ে যেতে চান, তাদের পছন্দের গন্তব্যে পৌঁছাতে পরিবহন ও সমন্বিত সহায়তা দেওয়া হবে। বাসিন্দারা রাশিয়া অথবা ইউক্রেনের অন্য এলাকায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নথিবদ্ধ করতে একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে যুক্ত করার কথাও জানিয়েছে ফার্স্ট লেডির দফতর। এর মাধ্যমে স্থানান্তরের সময় প্রতিটি পরিবারের ইচ্ছাকে সম্মান করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
মেলানিয়া ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন চলাকালে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তিগত আলোচনার সময় ওলেশকির মানবিক সংকটের বিষয়টি তার নজরে আসে। এরপর তিনি ও তার প্রতিনিধি রাশিয়া ও ইউক্রেনের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন।
এর আগে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে ছয় দফায় ৩৪ শিশুকে পরিবারের সাথে পুনর্মিলিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে মেলানিয়া ট্রাম্পের দফতর জানিয়েছে। এবারের উদ্যোগে মাইন অপসারণসহ বিভিন্ন জটিল কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য দুই দেশ প্রতিনিধি দল নিয়োগ করেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ওলেশকি ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি শহর, যা ২০২২ সাল থেকে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরটিতে খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সরবরাহের সংকট দীর্ঘদিনের। নতুন এ উদ্যোগের মাধ্যমে সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


