যুদ্ধের অবসান কিংবা ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’—এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ইরানের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। ইরানি জনগণ ও ‘প্রতিরোধ ফ্রন্টের’ অধিকার ও স্বার্থ নিশ্চিত করেই সংঘাতের অবসান চান তিনি।
ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন খামেনি। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
খামেনি বলেন, এসএনএসসি ও এর সচিবালয় নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় এসব বিষয়ের সম্মিলিত প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
সঠিক ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় বিবেচনায় রেখে একটি সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপরও জোর দেন তিনি।
বৈঠকে জাতীয় সংহতি ও ঐক্য জোরদার, জনগণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠা এবং দেশের সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে সমাধানে প্রেসিডেন্ট ও নির্বাহী সংস্থাগুলোকে সহায়তা করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে সংবিধানপ্রদত্ত সক্ষমতাগুলো কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন খামেনি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
খামেনি বলেন, ইরানের জাতীয় প্রতিরোধ শত্রুপক্ষকে মরিয়া করে তুলেছে। দেশ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা রক্ষায় জনগণের অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখতে সময়োপযোগী ও সক্রিয় জনসংযোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে জেনারেল রেজায়ি ইরানের বিভিন্ন খাতের পরিস্থিতি এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতিবেদন দেন। তিনি জানান, এসএনএসসির সচিবালয়ের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হলো ইরানের নিজস্ব সক্ষমতার ভিত্তিতে আঞ্চলিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কৌশল এগিয়ে নেওয়া।
ইরানের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় শুরু হওয়া প্রথম যুদ্ধ ১২ দিন স্থায়ী হয়েছিল। এরপর ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় সংঘাত শুরু হয়, যা ৪০ দিন চলার পর এপ্রিলের শুরুতে সাময়িকভাবে থামে। ইরানের দাবি, দেশটির প্রতিরোধ ও পাল্টা হামলার মুখে দুই দফা সংঘাতেই প্রতিপক্ষ যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়।
দ্বিতীয় দফার সংঘাতের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে তেহরান। ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ অবসানে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ লঙ্ঘন করে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায় এবং নৌ-অবরোধ আরোপ করে।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় তেহরান।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যে আবারও স্পষ্ট হলো, সংঘাতের স্থায়ী অবসানের ক্ষেত্রে নিজেদের ঘোষিত শর্ত এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে তেহরান।




