চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার
আলাতুলী হাটপাড়া এলাকায় নিখোঁজের ১৭ দিন পর পদ্মা নদী থেকে গোলকাজুল ওরফে কাজল নামে
এক গরু ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি)
বিকেলে সদর উপজেলার আলাতুলী ইউনিয়নের গোদাগাড়ী হাটপাড়া ঘাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা
হয়।
সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা
ইউনিয়নের চাকপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেন ফিরোজের ছেলে গোলকাজুলের পরিবার। মরদেহটি উদ্ধার
করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে
পুলিশ।
পরিবার জানায়, গত ৩ জানুয়ারি
রাতে নিখোঁজ হন গোলকাজুল। এ ঘটনায় ৮ জানুয়ারি নিখোঁজ গোলকাজুলের স্ত্রী লিসা বেগম বাদী
হয়ে সদর মডেল থানায় অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগের দুই নেতাসহ
আটজনের নাম উল্লেখসহ ১৬ জনকে আসামি করেন। এ মামলায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গোলকাজুলের ভাই হাবিবুর রহমান বলেন, আমার ভাই একজন সাধারণ গরু ব্যবসায়ী। ভারত থেকে আসা গরু এলাকায় বিক্রি করতেন। তবে গরু চোরাচালানের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই তার।
স্থানীয় গরু চোরাকারবারিরা তাকে পরিকল্পিতভাবে
নিয়ে গিয়ে মদ পান করিয়ে ব্যাপক নির্যাতনের পর হত্যা করে। মরদেহ উদ্ধারের পর তার শরীরের
বিভিন্ন অংশে আঘাত ও জখমের চিহ্ন রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি,
অল্প কয়েকদিনের মধ্যে হত্যার পর নদীতে লাশ ফেলে গেছে আসামিরা। কারণ ১৭ দিন আগে মারা
গেলে মরদেহের কিছুই পাওয়া যেত না। এমনকি গোলকাজলের মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পকেট থেকে
৪০ হাজার নগদ টাকা ও তার ব্যবহৃত মুঠোফোন পাওয়া গেছে। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচারের
দাবি জানান তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত
পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, স্থানীয়দের দেওয়া খবরে পুলিশ নদী থেকে অর্ধগলিত মরদেহটি
উদ্ধার করে। নিখোঁজ গোলকাজলের পরিবার মরদেহটি শনাক্ত করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী
তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মরদেহের দেহে আঘাত বা জখমের
চিহ্ন পাওয়ার বিষয়ে তিনি আরও জানান, মরদেহটি যেহেতু অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং
পঁচে গেছে, তাই আঘাতের চিহ্ন তেমন বোঝা যাচ্ছে না। আগের অপহরণের মামলায় তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

