...|...|...

সারাদেশ

তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে অটোরিকশা চালক সুমন: পুলিশ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:৫০ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৫৭
Shares
তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে অটোরিকশা চালক সুমন: পুলিশ

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নেওয়ার পথে তাজমিনকে অন্য রাস্তায় নিয়ে যান চালক। পরে ধানক্ষেতে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার অভিযুক্ত জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় পুলিশ। 

পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। চালক ভাড়া ৫০০ টাকা দাবি করলেও তাজমিন ৩০০ টাকা দিতে রাজি হন। পরে ওই ভাড়াতেই যাত্রা শুরু হয়।

পথে অভিযুক্ত ১৭০ টাকা দিয়ে রুটি ও কলা কেনেন। এরপর শর্টকাট রাস্তা দিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাজমিনকে অন্য পথে নিয়ে যান তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় তাজমিন চিৎকার করলে সুমন তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়লে তাকে ধানখেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন সুমন। পরে ধানখেতের মাটিতে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন তিনি।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর তাজমিনের হাতব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানখেতে ফেলে দেন সুমন। এরপর ঘটনাস্থলে নিজের অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন। পরে ভাড়ায় চালিত অন্য একটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের ঝোপে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান তিনি।

গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের ঝোপের ভেতর লুকিয়ে রাখা তাজমিনের আইফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। পরিবারের সদস্যদের সাথে সে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত। সে নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে তার কক্সবাজারে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে সে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নামে। এরপর বাড়ি ফেরার জন্য অটোরিকশা ভাড়া করতে গিয়ে এ ঘটনার শিকার হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর ভুক্তভোগীর পরিবার কোন জিডি করেননি। তিনি কেন বা কার সাথে কক্সবাজার গিয়েছেন, তার পরিবারের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জানতে পারবো। আর এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না সবকিছুই আমরা তদন্ত করছি।

এ ঘটনায় মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।