...|...|...

রাজনীতি

নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা:

জামাতার গ্রেফতার নিয়ে যা বললেন জামায়াত এমপি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:৩০ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:২৬
Shares
জামাতার গ্রেফতার নিয়ে যা বললেন জামায়াত এমপি

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার অভিযোগে কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিবৃতি দিয়েছেন সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তার বিবৃতিটি পাঠান কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক।

বিবৃতিতে আব্দুল গফুর বলেন, ঢাকার মাটিকাটা এলাকা থেকে মিজানুর রহমানের গ্রেফতার এবং এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ তার নজরে এসেছে। এসব প্রতিবেদনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে এবং তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মিজানুর রহমানকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে-গণমাধ্যমে এমন যে তথ্য এসেছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন আব্দুল গফুর। তিনি জানান, ঢাকার মাটিকাটা এলাকায় তার কোনো ব্যক্তিগত বাসা নেই। সরকারি বরাদ্দের ‘ন্যাম ভবনে’ তিনি অবস্থান করেন।

সংসদ সদস্যের দাবি, তথ্য যাচাই না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে আব্দুল গফুর বলেন, এর সাথে তার কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। একইভাবে জামাতা মিজানুর রহমানের ব্যবসায়িক বিরোধের সাথে জামায়াতে ইসলামীরও কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।

বিবৃতিতে আব্দুল গফুর দাবি করেন, পুরো বিষয়টির সূত্রপাত ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিজানুর রহমানের সাথে ‘নিউ গিনি প্রোপার্টিজ’-এর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। প্রতিষ্ঠানটির কাছে তার পাওনা টাকা বকেয়া ছিল এবং তা পরিশোধের জন্য তিনি আইনগতভাবে দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

তার দাবি, পাওনা পরিশোধ না করায় একপর্যায়ে মিজানুর রহমান থানায় মামলা করেন। ওই মামলার পর প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল ইসলাম পাওনা অর্থের একটি অংশ পরিশোধ করেন।

তবে বাকি টাকা পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে পরে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হয় বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। আব্দুল গফুরের ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে ওই মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় খারিজ হয়ে যায়।

সম্প্রতি নিউগিনি প্রপার্টিজে ভাঙচুর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাথে মিজানুর রহমানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন সংসদ সদস্য। তার অভিযোগ, বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে সাজানো ঘটনা ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছেন।

আব্দুল গফুর আবারও দাবি করেন, তার জামাতার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধের সাথে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যক্তিগত একটি ঘটনাকে রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত করে সংবাদ প্রকাশ করা রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, একটি ব্যবসায়িক বিরোধকে রাজনৈতিক রং দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি তাকে এ ঘটনার সাথে জড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ ধরনের সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

গণমাধ্যমকে ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন আব্দুল গফুর। তিনি বলেন, কোনো পক্ষের একতরফা বা অসম্পূর্ণ বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।

এ ছাড়া যেসব গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বা অসত্য তথ্য প্রকাশিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন, সেসব প্রতিবেদন সংশোধন করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার আহ্বানও জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-২ আসনের এই সংসদ সদস্য।