...|...|...

বিশ্ব

জব্দ করা মার্কিন ‘সাবমেরিন’ রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং করছে ইরান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:১৫ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:২২
Shares
জব্দ করা মার্কিন ‘সাবমেরিন’ রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং করছে ইরান

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথে জব্দ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক চালকবিহীন ডুবোযানের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও অনুলিপি তৈরির প্রক্রিয়া বা ‘রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং’ শুরু করতে যাচ্ছে ইরান। ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী ওই যানটি জব্দ করেছিল বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি।

ইরানের গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার সময় মার্কিন অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামের বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন মোহেব্বি।

তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো ইরানের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে এর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। তাঁর দাবি, এই যুদ্ধবিমানে বিশেষ সংকর ধাতু, স্টিলথ প্রযুক্তি, সর্বোচ্চ উড্ডয়ন উচ্চতা ও অস্ত্র বহনের সক্ষমতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এফ-৩৫ বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া আইআরজিসি নৌবাহিনীর হাতে আসা মার্কিন ডুবোযানটির বিষয়েও কথা বলেন মোহেব্বি। তিনি বলেন, ‘আইআরজিসি নৌবাহিনীর হাতে আসা ওই আন্ডারওয়াটার ভেসেলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে এবং সেটির রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ শুরু হবে।’

তিনি আরও বলেন, ইরানের কাছে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, সহায়তাকারী বিমান, পরিবহন বিমান, গোয়েন্দা নজরদারি বিমান, ডুবোযান ও চালকবিহীন যান রয়েছে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, বিশ্লেষকদের ধারণা, জব্দ করা ডুবোযানটি থেকে ইরান বড় কোনো সামরিক সুবিধা নাও পেতে পারে। তবে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে নিজেদের সক্ষমতা দেখানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঘটনাটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

এর আগে সেপ্টেম্বরে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক চালকবিহীন ডুবোযান আটক ও জব্দ করা হয়েছে। বাহিনীটির দাবি, একটি ‘জটিল গোয়েন্দা ও অভিযানমূলক কার্যক্রমের’ মাধ্যমে যানটি জব্দ করা হয়।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, যানটিতে বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক ডুবো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি ২০২৫ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম আটক করা যানটিকে ‘ডাইভ-এলডি’ হিসেবে শনাক্ত করেছে। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় চালকবিহীন ডুবোযান, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ তৈরি করেছে। ২০২৫ সালে এটি প্রথমবার মার্কিন নৌবাহিনীর ‘আনম্যানড আন্ডারসি ভেহিকেল গ্রুপ ১’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার, ব্যাস ১ দশমিক ২ মিটার এবং ওজন প্রায় ২ দশমিক ৭ টন। এটি পানির নিচে একটানা ১০ দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার মিটার গভীরতায় কাজ করতে পারে।

মডুলার ও স্বয়ংক্রিয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি এই ডুবোযানটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও অনুসন্ধান, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, অবকাঠামো পরিদর্শন এবং সমুদ্রতলস্থ মাইন বা বিস্ফোরক শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়।

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা যখন তীব্র, তখনই এই ডুবোযান আটকের ঘটনা ঘটে। গত এক দশকে ইরানি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু সামরিক সম্পদ ভূপাতিত বা আটক করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল স্টিলথ ড্রোন, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং পারস্য উপসাগরে আটক বিভিন্ন ডুবো-গ্লাইডার ও নৌযান।

ইরান অতীতে এসব প্রযুক্তির গঠন ও কার্যপ্রণালি বিশ্লেষণ করে নিজস্ব চালকবিহীন আকাশ ও নৌ-প্রযুক্তি কর্মসূচিতে ব্যবহার করেছে বলে দেশটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।