মুন্সিগঞ্জে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে এক কাজীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রাজীব হোসেন অপুর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় করা মামলায় রাজীব হোসেন অপু ও তার সহযোগী স্বপনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে রাজীবকে যুবদল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কাজী মো. হাবিবুর রহমান মানবজমিন মাল্টিমিডিয়ার সাংবাদিক নাহিদ হাসানের বাবা।
থানা ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার কাটাখালী এলাকার বাসা থেকে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে কাজী মো. হাবিবুর রহমানকে ডেকে নেওয়া হয়। রাজীব হোসেন অপু, স্বপনসহ চার-পাঁচজন মোটরসাইকেলে করে তাকে মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে মুন্সিগঞ্জ অগ্রণী ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা তুলে অভিযুক্তদের দেওয়া হয়। টাকা পাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন কাজী হাবিবুর রহমান।
এজাহারে বলা হয়েছে, স্বপনের স্ত্রী ইতি (২৫) অভিযোগকারী কাজী মো. হাবিবুর রহমানের মাধ্যমে স্বপনকে তালাকনামা প্রদান করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়।
পরে ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসানকে সাথে নিয়ে থানায় মামলা করেন কাজী হাবিবুর রহমান।
সোমবার রাতে রাজীব হোসেন অপু ও স্বপনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে চাঁদার দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলায় অভিযোগের ভিত্তিতে রাজীব হোসেন অপু ও স্বপনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে, গ্রেফতারের পর রাজীব হোসেন অপুকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।


