বরগুনার তালতলীতে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে রিমা নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে লাশ গ্রহণকে কেন্দ্র করে নিহতের স্বজন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের স্পষ্ট দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর দুইটার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে এ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত। সোমবার (৩ আগস্ট) রিমাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়া অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনদের জোরালো অভিযোগের মুখে তালতলী থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
স্বজনদের দাবি, লাশ মর্গে রেখে রিমার স্বামী ইউসুফ ও তার পরিবারের সদস্যরা কাউকে কিছু না জানিয়েই সেখান থেকে দ্রুত চলে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা পুনরায় মর্গে এলে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাক্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নিলে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ বিষয়ে নিহত রিমার স্বজন আবু বকর বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি রিমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশকে প্রভাবিত করে অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা ময়নাতদন্তের আবেদন করলে লাশ মর্গে পাঠানো হয়। অথচ লাশ রেখেই রিমার স্বামী পালিয়ে গিয়েছিল।’
নিহত রিমার ভাই মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বোনকে জোর করে গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে। ঘটনার দু-একদিন আগেও আমার বোনকে নির্মমভাবে মারধর করা ছিলো, যার কারণে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।’
এ বিষয়ে তালতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্যই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।


