...|...|...

সারাদেশ

বরগুনায় স্কুলছাত্রীকে পিটিয়ে দাঁত ফেলে দিলো বখাটে

বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৪৫
Shares
বরগুনায় স্কুলছাত্রীকে পিটিয়ে দাঁত ফেলে দিলো বখাটে

বরগুনায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করায় ফয়সাল মৃধা নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় ওই শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই শিক্ষার্থীর তিনটি দাঁত উপড়ে গেছে এবং দুটি দাঁত ভেঙে গেছে।

পরে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরগুনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় রাতে শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে বেতাগী থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী গ্রামের ফরিদ মৃধার ছেলে ফয়সাল মৃধা একই গ্রামের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এবং তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। ফয়সাল ওই শিক্ষার্থীর দূরসম্পর্কের মামা হন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই শিক্ষার্থী বাড়ির বাইরে টয়লেটে যায়। এ সময় ফয়সাল টয়লেটের দরজার ফাঁক দিয়ে শিক্ষার্থীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ। পরে শিক্ষার্থী চিৎকার করলে বাড়ির লোকজন ছুটে আসেন। এ সময় ফয়সাল পালিয়ে যান।

পরে ওই শিক্ষার্থীর মা সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানান। এরপর আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য বেতাগী থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ফয়সাল ও তার পরিবারের লোকজনকে ডাকা হয়। তবে তারা উত্ত্যক্তের অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিসসহ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়।

তবে সোমবার স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ফয়সাল ওই শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এতে শিক্ষার্থীর তিনটি দাঁত উপড়ে যায় এবং দুটি দাঁত ভেঙে যায়। ঘটনার সময় শিক্ষার্থীর সাথে থাকা সহপাঠীরা বিষয়টি শিক্ষকদের জানালে তারা তাৎক্ষণিকভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বরগুনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আহত শিক্ষার্থী বলেন, ‘ফয়সাল আমাকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিত। রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি আমি মাকে জানালে তিনি গুরুত্ব দেননি। আজ সে আমাকে স্কুল থেকে ফেরার সময় ঘুষি ও লাথি মেরে আমার তিনটি দাঁত উপড়ে ফেলেছে এবং দুটি দাঁত ভেঙে দিয়েছে। এখন আমার মাথাসহ মুখে খুব ব্যথা করছে।’

শিক্ষার্থীর মা বলেন, ‘আমার মেয়ে শনিবার রাতে টয়লেটে গেলে দরজার ফাঁক দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিকারের জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেছিলাম। পুলিশও এসেছিল। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় লোকজন সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেছিল। কিন্তু আজ আবার আমার মেয়েকে মেরে অঙ্গহানি করে দিয়েছে। আমি গরিব মানুষ। এ ঘটনায় বিচার পাব কি না জানি না।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস বলেন,  ‘‘শনিবার পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেছিলাম। তখন পুলিশের সামনেই ফয়সালের মা মোছা. শিরিন হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘এই ঘটনায় পুলিশ এনেছো, এর ফল তোমাদের বুঝাব।’ আজ সেই ঘটনা ঘটল। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।”

গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ননী গোপাল মালাকার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জানতে পেরে আমরা আহত ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এ ঘটনায় আমরা সুষ্ঠু বিচার কামনা করছি।’

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় মূল অভিযুক্ত ফয়সালের মা মোছা. শিরিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।