টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ সেনা সদস্যকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে এই পদ্ধতিতে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর।
সোমবার (৫ অক্টোবর) পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশক্রমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। এখন মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন।
২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৩ জন নিরস্ত্র সেনাকে হত্যা এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেন সাবেক সেনা মেজর ও মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল হাসান। ২০১৩ সালে সামরিক আদালতে শুনানিকালে নিজের অপরাধ স্বীকার করে তিনি দাবি করেছিলেন, আফগানিস্তানে তালেবান ও মুসলমানদের রক্ষার লক্ষ্যেই তিনি এই হামলা চালিয়েছিলেন।
মার্কিন সামরিক আইন অনুযায়ী কোনো সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে দেশের প্রেসিডেন্টের সরাসরি অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও ফায়ারিং স্কোয়াড বা ফায়ারিং দল দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা বিরল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন সেনাবাহিনীতে এমন ঘটনা আর ঘটেনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে প্রথম দিনেই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল করেন তিনি। জঘন্য অপরাধ দমনে ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবেই নিদাল হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদিত হলো।


