ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজন চরম রূপ নেওয়ায় দেশটি গৃহযুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ ধসের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন।
‘ড্রপ সাইট নিউজ’-এ প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'মিডল ইস্ট আই' প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। সিআইএর আধা-স্বাধীন ইউনিট ‘রেড সেল’ প্রস্তুতকৃত ‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইদিন’ (ভেতর থেকে ভাঙন) শীর্ষক এই প্রতিবেদনে প্রথাগত ভাবনার বাইরে গিয়ে ইসরায়েলের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে অতি-রক্ষণশীল (আল্ট্রা-অর্থোডক্স) ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের ছাড় বাতিলের উদ্যোগ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম বিতর্ক। ইউটিজে ও শাস-এর মতো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তির কারণে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোটে ফাটল ধরেছে।
অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ চলার কারণে কয়েক লাখ রিজার্ভ সেনাকে তলব করা হলেও অতি-রক্ষণশীলদের এই ছাড় দেওয়ার বিষয়টি দেশটির সাধারণ নাগরিকদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। একই সঙ্গে সামরিক সেবা এড়ানোর অভিযোগে অতি-রক্ষণশীল তরুণদের আটক করায় বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
সিআইএর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ শেষে বেসামরিক জীবনে ফিরে আসা হাজার হাজার সশস্ত্র সেনা সদস্যের মানসিক স্বাস্থ্য, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে উগ্র বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং লাগামহীন খাদ্য মূল্যস্ফীতি দেশটিকে গৃহসংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এছাড়া বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ হ্রাস ও আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ প্রক্রিয়া থমকে যাওয়াও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পতন ত্বরান্বিত করতে পারে।
জরিপ অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহু কিংবা তার বিরোধী পক্ষ—কোনো জোটই সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে নির্বাচনটি ইসরায়েলি রাজনীতিকে কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান না দিয়ে উল্টো অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


