...|...|...

বিশ্ব

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:২৮ | আপডেট: ৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৫৪
Shares
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছর পদার্থবিজ্ঞানে এককভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে স্থাপিত আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তে নির্ণায়ক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ বছরের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেলজয়ী হিসেবে ফ্রান্সিস হালজেনের নাম ঘোষণা করে। নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং জ্যোতির্পদার্থগত উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারে নির্ণায়ক ভূমিকার জন্য তাকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে।

নিউট্রিনো অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় ভরহীন এক ধরনের মৌলিক কণা। সাধারণ পদার্থের সাথে এসব কণার মিথস্ক্রিয়া খুবই কম হওয়ায় এগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। তবে মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও শক্তিশালী বিভিন্ন জ্যোতির্পদার্থগত উৎস সম্পর্কে তথ্য পেতে নিউট্রিনোর গবেষণা বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যান্টার্কটিকার বরফের প্রায় দেড় কিলোমিটার গভীরে স্থাপন করা হয়েছে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি। বিশাল এই বৈজ্ঞানিক গবেষণা ব্যবস্থার মাধ্যমে মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পৌঁছানো উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করা হয়। নিউট্রিনোর মাধ্যমে মহাবিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী ও দূরবর্তী উৎস সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ বছরের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। সাধারণত একাধিক ব্যক্তি পুরস্কার পেলে এই অর্থ তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। তবে এবার পদার্থবিজ্ঞানে পুরো পুরস্কারটিই এককভাবে পেয়েছেন ফ্রান্সিস হালজেন।

আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছাপত্র অনুসারে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়ে আসছে। বিজ্ঞানের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত এই পুরস্কারের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে এর আগে আলবার্ট আইনস্টাইন, মেরি কুরি, পিয়েরে কুরি, ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ও নিলস বোরের মতো বিজ্ঞানীরা সম্মানিত হয়েছেন।

গত বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন জন ক্লার্ক, মিশেল ডেভোরে ও জন মার্টিনিস। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য পরীক্ষার মাধ্যমে প্রদর্শনের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।

এবারের নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা শুরু হয় সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে। বুধবার রসায়নে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগের পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।

আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে নোবেল পদক তুলে দেবেন দেশটির রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তাফ। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের পর স্টকহোম সিটি হলে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী নোবেল ভোজ।