...|...|...

বিশ্ব

ইরানিদের ‘শত্রুভাবাপন্ন গণমাধ্যমে’ সাক্ষাৎকারে নিষেধাজ্ঞা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:৩১
Shares
ইরানিদের ‘শত্রুভাবাপন্ন গণমাধ্যমে’ সাক্ষাৎকারে নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের নাগরিকদের ‘শত্রুভাবাপন্ন গণমাধ্যমে’ যাওয়া বা এসব মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়া নিষিদ্ধ করতে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে দেশটির সংসদ। নতুন এই বিধানের আওতায় কোন কোন গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ তালিকায় রাখা হবে, তা নির্ধারণ করে ঘোষণা করবে ইরানের ইন্টেলিজেন্স মন্ত্রণালয়।

ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রভাব প্রতিহত করা’ এবং গুপ্তচরবৃত্তির শাস্তি আরও কঠোর করার লক্ষ্যে নেওয়া একটি বিতর্কিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

তবে সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ নির্ধারিত ‘শত্রুভাবাপন্ন’ গণমাধ্যমে যাওয়া বা সাক্ষাৎকার দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তারা এই বিধানের আওতামুক্ত থাকবেন।

প্রস্তাব অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে ইসলামী দণ্ডবিধির ষষ্ঠ স্তরের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এই স্তরের শাস্তির মধ্যে ছয় মাস থেকে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড এবং ২০ থেকে ৮০ মিলিয়ন তোমান পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া ৩১ থেকে ৭৪টি পর্যন্ত চাবুকের আঘাতের শাস্তিও রয়েছে। সতীত্ববিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯৯টি পর্যন্ত চাবুকের আঘাতের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের জন্য সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং গণমাধ্যমে চূড়ান্ত রায় প্রকাশের মতো শাস্তিও দেওয়া যেতে পারে।

‘প্রভাব প্রতিহত করার’ পরিকল্পনাটি প্রথম গত ১৫ আগস্ট ইরানের সংসদে অনুমোদিত হয়। এরপর থেকেই এটি নিয়ে দেশটির ভেতরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তবে পরিকল্পনাটিতে ‘অনেক ত্রুটি’ রয়েছে উল্লেখ করে ইরান সরকার গত ১০ সেপ্টেম্বর এর সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে। সরকারের আপত্তির মধ্যেই পরিকল্পনার বিভিন্ন ধারা নিয়ে সংসদে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

পরিকল্পনার আরেকটি ধারায় ইরানি গবেষকদের সঙ্গে বিদেশি বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার বৈজ্ঞানিক সহযোগিতাও নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি শুধু বিদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ নয়, আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ তৈরি করতে পারে।

ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘বিদেশি প্রভাব’ মোকাবিলা এবং গুপ্তচরবৃত্তি ঠেকানোর যুক্তিতে এসব বিধান আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে পরিকল্পনাটির বিভিন্ন ধারা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকেই আপত্তি তোলা হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি