কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মাদারীপুরের প্রায় ৪ হাজার গরুর খামারে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। দেশীয় পদ্ধতিতে গবাদিপশু মোটাতাজা করে ঈদ বাজারে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন খামারিরা। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পশু সরবরাহেরও আশা করছেন তারা।
মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের বড়কান্দি এলাকার সীমা বেগম ও মোক্তার চোকদার দম্পতি নিজেরা গড়ে তুলেছেন একটি খামার। স্বামী-স্ত্রী মিলে ৩৫টি দেশি-বিদেশি গরু লালন-পালন করছেন। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে যত্ন নিয়ে পশুগুলো মোটাতাজা করা হচ্ছে। এবারের ঈদে সব পশু বিক্রি হবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।
অন্যদিকে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের রাজারচর এলাকার তরুণ উদ্যোক্তা নুরে আলম ইসলাম সবুজ ২০১৭ সালে এমবিএ শেষ করে শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দেন। তবে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে ২০২৪ সালে চাকরি ছেড়ে ২৪টি গরু নিয়ে শুরু করেন ‘তালুকদার এগ্রো পার্ক।’ বর্তমানে তার খামারে রয়েছে প্রায় ৪০টি ষাঁড় গরু।
তিনি জানান, খড়, খৈল, ভুষি, গুড়ের চিটা, চাল-ডালের গুঁড়ো এবং নেপিয়ার ঘাসের মতো প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়ে কোনো ধরনের ইনজেকশন বা স্টেরয়েড ছাড়াই গরু পালন করা হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপতরের তথ্য অনুযায়ী, মাদারীপুরের ৫টি উপজেলায় ৪ হাজার ৭৯টি খামারে পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। এবারের কোরবানির জন্য জেলার চাহিদা ৬৬ হাজার ৮৮০টি পশু হলেও প্রস্তুত রয়েছে ৭২ হাজার ৪৯৫টি পশু।
পশু কেনাবেচার জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে অর্ধশত হাট বসানো হবে। এসব হাটকে কেন্দ্র করে ১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
খামারিদের প্রত্যাশা, ভারতীয় গরু আমদানি ও চোরাচালান বন্ধ থাকলে এবার তারা ন্যায্যমূল্যে পশু বিক্রি করতে পারবেন এবং গত বছরের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
খামারি মিরাজ মাতুব্বর বলেন, ‘সারাবছর কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকি। এবার দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করেছি। ভালো দাম পেলে ভবিষ্যতে খামার আরও বড় করবো।’
টিটো সরদার খান বলেন, ‘খড়, ভুষি ও ঘাস খাইয়ে গরু প্রস্তুত করছি। এবার ভালো বিক্রির আশা করছি।’
মাদারীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আছির উদ্দিন জানান, খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিকর উপায়ে মোটাতাজা প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।

