মাদারীপুর জেলার শিবচরে দিন দিন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের পাশাপাশি তরুণ-যুবকদের সংখ্যাও উল্লেখ্যযোগ্য। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াও অনেকে আবার বাড়িতে বসেও চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রায় প্রতিদিনই জ্বরে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে আসছেন ডেঙ্গু টেস্ট করাতে। জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে ডেঙ্গু পজেটিভ রোগীর সংখ্যা গত দুই মাস ধরে বাড়ছে। একই সাথে হামে আক্রান্ত রোগীও আসছে প্রচুর। গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ শত ১৪ জন রোগী। যাদের বেশির ভাগই সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কিছু উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল ত্যাগ করেছে। তবে কোন মৃত্যু নেই।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছে ১১ জন। এদের মধ্যে শিশু, যুবক এবং বয়স্ক নারী-পুরুষ রয়েছেন। অন্যদিকে সেপ্টেম্বর মাসে হামে আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিল ৩০ জন। চলতি মৌসুমে ১শত ৩৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে হামে আক্রান্ত ৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে।
আকলিমা বেগম নামে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর স্বজন বলেন,'জ্বর হওয়ার পর ডেঙ্গু টেস্ট করলে ধরা পড়ে। এরপর থেকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। ৪ দিন ধরে চিকিৎসাধীন আছে। শরীর খুবই দূর্বল। তাছাড়া, হাসপাতালের পরিবেশ খুবই নোংরা। সেবাও তেমন ভালো না।'
জুলেখা নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন,'৫ দিন ধরে ভর্তি। এখন একটু ভালোর দিকে। প্লাটিলেট বাড়তেছে। ২/১ দিনে আরও সুস্থ্য হলে বাড়ি নিয়ে যাবো।'
এদিকে মৌসুমী জ্বরে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীদের হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। গত কয়েকদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত প্রচুর সংখ্যক রোগী হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে। এসকল রোগীর স্বজনেরা জানান,'জ্বর হলেই শরীর ভীষণ রকম দূর্বল হয়ে যাচ্ছে।'
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ইব্রাহিম মিয়া জানান,'গত দুই মাস ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেড়েছে। চলতি মাসেও বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে। এরপর থেকে কমতে থাকবে বলে আশা করি। আমাদের সাধ্যমতো রোগীদের সেবা দেবার চেষ্টা করি। ডেঙ্গুর পাশাপাশি শিশুদের হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কম নয়। তবে আমাদের এখান থেকে রোগী সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরছেন।'


