...|...|...

সারাদেশ

সাড়ে সাত মাস পর উৎপাদনে ফিরল যমুনা সার কারখানা

জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৬
Shares
সাড়ে সাত মাস পর উৎপাদনে ফিরল যমুনা সার কারখানা

গ্যাস সরবরাহ পেলেও চাপ কম থাকায় দীর্ঘ ১৬ দিন পর অবশেষে ইউরিয়া সার উৎপাদনে ফিরেছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল)।

গ্যাস সংযোগ পাওয়ার ১৬ দিন পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৩টা ১০ মিনিটে কারখানাটিতে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, জেএফসিএলে স্বাভাবিকভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ গ্যাস প্রয়োজন হয়। তবে নির্ধারিত দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া ও ১ হাজার ৭৮ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে গ্যাসের চাপ ৪৬ এমএমসিএফ থাকা জরুরি।

এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় সাত মাস বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। তবে গ্যাসের চাপ ও উৎপাদন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও ১৬ দিন সময় লাগে। এরপর মঙ্গলবার গভীর রাতে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে ফেরে কারখানাটি।

১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত যমুনা সার কারখানায় ১৯৯১ সালে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় এ কারখানার সার সরবরাহ করা হয়।

২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি বন্ধ হওয়ার ২২ মাস পর ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর গ্যাস পেয়েছিল কারখানাটি। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্যাস সংকটের কারণে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন কারখানাটি বন্ধ থাকায় উত্তরাঞ্চলে সার সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শ্রমজীবী মানুষের আয়-রোজগারেও স্থবিরতা নেমে এসেছিল। উৎপাদন শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে।

তবে স্থায়ীভাবে সার উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ নিশ্চিত রাখার দাবি জানিয়েছেন জেএফসিএলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, সার ডিলার, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও স্থানীয় কৃষকরা।

উৎপাদন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন। তিনি বলেন, ‘গ্যাস সংকট না হলে সার উৎপাদন চলমান থাকবে।’