কানাডার তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ আলবার্টার স্বাধীনতার প্রশ্নে আগাম গণভোটে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন অধিকাংশ ভোটার। সোমবার অনুষ্ঠিত এই ভোটের প্রাথমিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রদেশটির প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার স্বাধীনতার দাবিতে গণভোটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে কানাডা থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবির পক্ষে প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।
এই ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তার মতে, আগাম ভোটের ফলের মধ্য দিয়ে আলবার্টার বাসিন্দারা তাঁদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। প্রদেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এই ফলকে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে জনমতের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ভোটের ফল মেনে নিয়ে স্বাধীনতার দাবি থেকে সরে আসতে রাজি নন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা। আলবার্টার স্বাধীনতাপন্থী নেতা জেফরি রাথ বিবিসিকে জানিয়েছেন, আগাম গণভোটে পরাজিত হলেও তারা স্বাধীনতার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। অর্থাৎ ভোটে স্বাধীনতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলেও প্রদেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত আলবার্টা দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনকারী অঞ্চল। প্রদেশটিতে বিপুল তেলের মজুত রয়েছে, যা কানাডার অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই প্রদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্য স্বাধীনতার প্রশ্নকে মাঝেমধ্যেই আলোচনায় নিয়ে আসে।
স্বাধীনতাপন্থীদের যুক্তি, আলবার্টার সম্পদ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর প্রদেশটির আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। তাঁদের একাংশ মনে করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তে আলবার্টার স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। অন্যদিকে, কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষের মানুষের কাছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জাতীয় ঐক্য এবং বৃহত্তর কানাডীয় কাঠামোর সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
এমন এক সময়ে আলবার্টার স্বাধীনতা নিয়ে এই ভোট অনুষ্ঠিত হলো, যখন প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত করার হুমকি দিয়ে আসছেন। ট্রাম্পের এমন বক্তব্য কানাডার সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।
তবে আলবার্টার ভোটের ফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, স্বাধীনতার প্রশ্নে প্রদেশটির অধিকাংশ ভোটার এখনই কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে নন। যদিও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, ফলে আলবার্টার স্বাধীনতার প্রশ্নটি দেশটির রাজনীতিতে ভবিষ্যতেও আলোচনার বিষয় হয়ে থাকতে পারে।


