যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে নিজেদের কূটনৈতিক উপস্থিতি সংকুচিত করার অংশ হিসেবে কানাডা, জাপান, ইন্দোনেশিয়াসহ পাঁচটি দেশের কূটনৈতিক মিশন বন্ধের পরিকল্পনা করেছে। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে কংগ্রেসকে অবহিত করেছে বলে বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহের শেষ দিকে কংগ্রেসের কয়েকটি কমিটিতে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেনাডার সেন্ট জর্জ, জাপানের নাগোয়া, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, ক্যামেরুনের ডুয়ালা এবং কানাডার উইনিপেগে অবস্থিত মার্কিন মিশন বন্ধের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিটি এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে নয়, বরং বৈশ্বিক কূটনৈতিক উপস্থিতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একসঙ্গে একাধিক বিদেশি মিশন বন্ধের এমন উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তুলনামূলকভাবে বিরল ঘটনা।
গত বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পররাষ্ট্র দপ্তরের বিদেশি মিশন পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ শুরু হয়। সে সময় রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, প্রশাসন প্রায় এক ডজন বিদেশি মিশন বন্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি ট্রাম্পের "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি ব্যয় কমানো এবং আমলাতন্ত্র পুনর্গঠনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
এদিকে, হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) আরও বড় পরিসরে প্রায় ৩০টি বিদেশি মিশন বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছিল। প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন, ছোট আকারের কিছু বিদেশি মিশন পরিচালনা ব্যয়সাপেক্ষ এবং সেগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব সীমিত।
তবে এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতারা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কয়েকজন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তাদের মতে, বিদেশে মার্কিন কূটনৈতিক উপস্থিতি কমিয়ে আনা এবং ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি)-এর কার্যক্রম সংকুচিত হওয়ায় বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে এতে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পাবে।
রবিবার এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মিশন বন্ধের পরিকল্পনা সরাসরি নিশ্চিত করেনি। তবে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি যাতে দক্ষ ও কার্যকর থাকে, সে লক্ষ্যেই তারা কাজ করছে এবং কংগ্রেসকে অবহিত করার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ব্যয়সংকোচনের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক হয়ে ওঠা একটি সংস্থাকে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত আকারে নিয়ে আসতেই এ ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন।
জানা গেছে, বন্ধের তালিকায় থাকা গ্রেনাডার সেন্ট জর্জ একটি দূতাবাস। অন্যদিকে উইনিপেগ, নাগোয়া ও মেদান কনস্যুলেট এবং ক্যামেরুনের ডুয়ালা একটি দূতাবাসের শাখা কার্যালয়। সাধারণত রাজধানীর বাইরে অবস্থিত এসব কনস্যুলেট ও শাখা অফিস সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও কনস্যুলার কার্যক্রম পরিচালনা করে।
প্রসঙ্গত, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি নতুন কূটনৈতিক মিশন চালু করেছিল। বর্তমানে বন্ধের তালিকায় থাকা সেন্ট জর্জ, নাগোয়া ও মেদানে চীনেরও কূটনৈতিক উপস্থিতি রয়েছে, যদিও ডুয়ালা ও উইনিপেগে চীনের কোনো কার্যকর কূটনৈতিক মিশন নেই।


