ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশ, সরকারি কাজে বাধা ও মুচলেকার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় আটক আরেক নেতা অজিনক্য শিন্ডেকে ব্যক্তিগত মুচলেকার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, বুধবার সকালে দিল্লির মন্দির মার্গে একজন বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তিন নেতাকে হাজির করা হয়। পরে আদালত সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। তিনি এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তোলেন।
দিল্লি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর সকালে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা, অজিনক্য শিন্ডে ও সিজেপির আরও ১১ সদস্য যন্তর মন্তরে যান। অভিযোগ, তাঁরা একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তির মধ্য দিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন। ওই স্থানটি তখন বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত ছিল না। পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে তাঁরা সরকারি কাজে বিঘ্ন ঘটান বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, এর আগে একই ধরনের ঘটনায় আটক হওয়ার পর সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দিয়েছিলেন। এবার সেই শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁদের পুনরাবৃত্ত অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, জামিনে মুক্তি পেলে তাঁরা আবারও আইন লঙ্ঘন করতে পারেন এবং অন্যদেরও এতে উৎসাহিত করতে পারেন—এমন আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, অজিনক্য শিন্ডেকে পাঁচ হাজার রুপির ব্যক্তিগত মুচলেকা ও জামিনদার দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ছয় মাস শান্তি ও সদাচরণ বজায় রাখার শর্তও দেওয়া হয়।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় (এসআইআর) অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিজেপিসহ বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। গত ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের এক আদেশে রামলীলা ময়দান, বুরাড়ি গ্রাউন্ড ও সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এতে অনুমোদিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে যন্তর মন্তর বাদ পড়ে।
সিজেপি এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছে, রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে নিলে জনদাবি তুলে ধরার দৃশ্যমানতা ও প্রভাব কমে যাবে। মঙ্গলবার যন্তর মন্তরে পুলিশের ব্যারিকেড টপকে প্রবেশ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়ার পর তিন নেতাকে আটক করা হয়েছিল।


