ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২১ জন। হামলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনের পাশাপাশি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ছিল রাজধানীতে দ্বিতীয় হামলা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি, হামলার আগে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পায়নি তার দেশ। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, নয়তলা আবাসিক ভবনটিতে হামলায় দুইজন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।
হামলার পর ভবনটির বিভিন্ন ফ্ল্যাটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি বিভাগের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করেন। ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে দমকলকর্মীদের আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে ৪ নম্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। তাঁর দাবি, রাশিয়া আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
জেলেনস্কি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার প্রতিও রাশিয়া সম্মান দেখাচ্ছে না। তাঁর মতে, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত থাকা এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কবার্তা না পাওয়া অন্যায্য।
এদিকে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধের জন্য কিয়েভের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে ওয়াশিংটন। রয়টার্সসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ না করলে ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও অস্ত্র বিক্রি বন্ধের হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা পেতে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।


