ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় নেতা পোপ চতুর্দশ লিও। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর ডান ফুসফুসের নিচের অংশ অপসারণের পর টিস্যু পরীক্ষায় ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ভ্যাটিকান। ৭১ বছর বয়সী পোপ বর্তমানে ইতালির রোমের জেমেলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ভ্যাটিকানের মেডিকেল বুলেটিন অনুযায়ী, পোপের ফুসফুসে ‘লাং অ্যাডেনোকার্সিনোমা’ শনাক্ত হয়েছে। এটি ফুসফুসের ক্যানসারের একটি সাধারণ ধরন। সম্প্রতি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় তাঁর ফুসফুসে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা টিউমার ধরা পড়ে। পরে মঙ্গলবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা হয়।
পোপের প্রধান শল্যচিকিৎসক ডা. স্টেফানো মার্গারিটোরা ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. লুইজি কার্বোন জানান, প্রায় ৯০ মিনিট ধরে অস্ত্রোপচার চলে। কোনো জটিলতা ছাড়াই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। ভিডিও-সহায়তাযুক্ত পদ্ধতিতে ডান ফুসফুসের নিচের অংশ অপসারণ করা হয়, যাতে ক্যানসারে আক্রান্ত সব টিস্যু সরিয়ে ফেলা যায়।
তবে ক্যানসারটি কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং লসিকাগ্রন্থিতে ছড়িয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. স্টিফেন লিউ বলেন, রোগের পর্যায় নির্ধারণ করা গেলে চিকিৎসার ধরন ও ভবিষ্যৎ ফলাফল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। ক্যানসার ছোট আকারের হলে এবং লসিকাগ্রন্থিতে না ছড়ালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই নিরাময় সম্ভব হতে পারে।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর পোপ স্বাভাবিকভাবে জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং হাসপাতালের কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছেন। সুস্থ হয়ে উঠতে তাঁকে প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। এ ছাড়া ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর সব জনসংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে পোপ নির্বাচিত হন লিও। তাঁর জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে, ১৯৫৫ সালে। পোপ হওয়ার আগে তিনি পেরুতে কয়েক দশক মিশনারি ও বিশপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আগামী ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও পেরু সফরের কথা রয়েছে তাঁর। তবে বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে সফরটি হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।



