কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার ৪৭ জন মুসলিম পুলিশকর্মী ও হোমগার্ডের দাড়ি রাখার অনুমতির আবেদন খারিজ করেছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। ধর্মীয় কারণে দাড়ি রাখার আবেদন করলেও প্রচলিত বিভাগীয় বিধিনিষেধ মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের।
কলকাতা পুলিশের কমিশনারের দফতর থেকে জারি করা একটি মেমোতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। জয়েন্ট কমিশনার অব পুলিশ (হেডকোয়ার্টার্স) স্বাক্ষরিত ওই মেমোতে বলা হয়েছে, পুলিশ সদস্যদের দাড়ি রাখার বিষয়ে প্রচলিত বিধিনিষেধ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
মেমো অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন, রিজার্ভ ফোর্স, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট ও ট্রাফিক পুলিশসহ বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ৪৭ জন পুলিশ সদস্য ও হোমগার্ড দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে প্রথম তালিকায় ৩০ জন এবং দ্বিতীয় তালিকায় ১৭ জনের নাম রয়েছে।
আবেদনকারীদের অনেকেই ধর্মীয় অনুশাসনের কারণে দাড়ি রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তবে পুলিশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত কারণ বা পছন্দের বিষয়টি বিবেচনার ঊর্ধ্বে বিভাগীয় শৃঙ্খলা ও প্রচলিত বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।
সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানদের আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিয়ম যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুশীলনের ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে আজান, ঈদের নামাজ ও কোরবানিসহ অন্যান্য বিষয়ে বিধিনিষেধের দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।
দাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুলিশের পুরোনো একটি ঘটনার কথাও মেমোতে উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার কনস্টেবল মুহাম্মদ আকরাম আলী শেখকে দাড়ি রাখার কারণে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তিনি ১৯৯৬ সালে হজ পালনের পর থেকে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে দাড়ি রাখছিলেন। তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাকে দাড়ি কাটতে বা ছেঁটে ফেলতে বললেও তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানান।
আকরাম আলী শেখ দাড়ি রাখাকে তার ধর্মীয় অধিকার ও বাধ্যবাধকতা হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয় এবং সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই সময় ১৯৪৩ সালের ‘পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল’ এর বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে সংখ্যালঘু কমিশনের হস্তক্ষেপে তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা যায়।
বর্তমান ঘটনায় দাড়ি রাখার অনুমতির আবেদন করা ৪৭ জনের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে মেমোতে কোনো নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়নি।


