...|...|...

বিশ্ব

ইরানের গোপন ঘাঁটিতে শিগগিরই হামলার হুমকি ট্রাম্পের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৪৮ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:০০
Shares
ইরানের গোপন ঘাঁটিতে শিগগিরই হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জিত করা থেকে বিরত রাখাই মার্কিন সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যে কোনো ধরনের তৎপরতা ধরা পড়লে ইরান অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং ভূগর্ভস্থ পরমাণু স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ খুব দ্রুত হামলা চালানো হতে পারে। খবর এনডিটিভির।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গত কয়েক মাস ধরে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে চলা মার্কিন সামরিক অভিযানের পক্ষে সাফাই গান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমাদের পাঁচ মাস হয়ে গেছে। আপনারা জানেন আমরা এই পাঁচ মাসে কী করেছি? তাদের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না; সেটাই আমরা করেছি।

তিনি আরও বলেন, ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না, কারণ যদি তা থাকত, তবে আপনারা হয়তো আর বেশিক্ষণ এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতেন না।

এরপর ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন যে, সেখানে কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্ত হলে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-কে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, আমরা খুব দ্রুত পিকঅ্যাক্সে আঘাত হানতে পারি, কারণ যদি পিকঅ্যাক্সে কোনো কিছু ঘটে থাকে....। মার্কিন গোয়েন্দারা ওই সাইটের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান তিনি।

ট্রাম্প বলেন, পিকঅ্যাক্সে কে কোথায় নড়াচড়া করছে, তা আমাদের জানা আছে; সারা ইরানে কে কোথায় চলাচল করছে, সে খবরও আমাদের জানা আছে। আর যদি পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায়, আমরা তাদের ওপর আঘাত হানব; আমরা তাদের ওপর কঠোরভাবে আঘাত হানব।

উল্লেখ্য, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ইরানের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নাতান্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সুবিধার কাছাকাছি অবস্থিত এবং এটিকে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্স বা গোপন ঘাঁটি হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যার মধ্যে দুটি গভীরভাবে প্রোথিত টানেল সিস্টেম রয়েছে। 

এর আগে, ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের বিশ্বাস—ইরান হাজার হাজার সেন্ট্রিফিউজ এই গভীরভাবে প্রোথিত স্থাপনায় স্থানান্তরিত করেছে।

এই স্থাপনাটির ভূগর্ভস্থ নির্মাণশৈলী এটিকে প্রচলিত বিমান হামলার বিরুদ্ধে অনেক বেশি প্রতিরোধী করে তুলেছে বলে ধারণা করা হয়। ফলে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে যেকোনো সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এই সামরিক অভিযানের একটি বড় ধরনের তীব্রতা বৃদ্ধি বা এসকালেশন হিসেবে গণ্য হবে।

ট্রাম্প আরও যুক্তি দেখিয়ে বলেন যে, মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, মার্কিন পদক্ষেপ না থাকলে ইসরায়েল ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য আরও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ত এবং তারা সম্ভবত পরবর্তীতে ইউরোপীয় শহরগুলো ও আমাদের শহরগুলোর ওপর চড়াও হতো।

তিনি বলেন, কিন্তু আমরা মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা থেকে থামিয়ে দিয়েছি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বেশ কয়েকটি বিমান হামলা সফলভাবে সম্পন্ন করার কয়েক দিন পরেই ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে অপারেশনগুলোতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস -এর সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। যার মধ্যে রয়েছে—বায়ুসেনা প্রতিরক্ষা ইনস্টলেশন, র‍্যাডার সিস্টেম, নৌ-সম্পদ, মাইন পাতার ক্ষমতা এবং যোগাযোগ সাইটগুলো।

সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে এবং মার্কিন সার্ভিস সদস্যদের বিরুদ্ধে আইআরজিসির সাম্প্রতিক হামলার চেষ্টার জবাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

ট্রাম্প ইরানি র‍্যাডার সিস্টেমের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা নিয়েও কথা বলেন এবং দাবি করেন যে, মার্কিন বাহিনী দুই দফায় অত্যাধুনিক র‍্যাডার ইনস্টলেশনগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, আমরা গত রাতে তাদের যে র‍্যাডার ধ্বংস করতে আঘাত হেনেছিলাম, তার আগের কয়েক দিন কোনো গুলিবর্ষণ হয়নি।