জাতিসংঘের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ইরানে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের বিষয়ে ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ রয়েছে বলে মনে করার মতো তথ্য তারা পেয়েছেন। একইসাথে সেখানকার নাগরিকরা তাদের নিজেদের সরকারের দ্বারা "মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের" লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলে ধরেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা সর্বশেষ প্রতিবেদনে স্বাধীন তদন্তকারীরা কাউন্সিলের ৪৭ সদস্য দেশকে সংঘাত বন্ধে চাপ প্রয়োগ, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বেসামরিক নাগরিকদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—কোনোটিই বর্তমানে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নয়।
প্রতিবেদনে তদন্তকারীরা বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তারা এমন তথ্য পেয়েছেন, যার ভিত্তিতে ধারণা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত এবং বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা মিনাব শহরের ‘শাজারেহ তাইয়েবেহ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, ওই হামলায় প্রায় ১২০ জন শিশু শিক্ষার্থীসহ ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। এছাড়া লামেরদ শহরের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও আবাসিক এলাকায় চালানো আরেকটি হামলায় ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে সরকারের পদক্ষেপকে ভিন্নমত দমনের দীর্ঘদিনের প্রবণতার আরও তীব্র রূপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারীরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী দেশের ৩১টি প্রদেশেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করেছে, যার মধ্যে অন্তত ২২১ জন শিশু রয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা এবং হাজারো গ্রেপ্তারের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের তদন্তকারীরা ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—তিন পক্ষকেই অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।


