ইরানের সাথে চলমান সংঘাত ও সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে এবার মার্কিন প্রশাসনের কাছে কঠোর জবাবদিহি চাইতে পারেন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। ওয়াশিংটনের জন্য এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার বা প্রস্থান করার সুনির্দিষ্ট কৌশল নির্ধারণ করা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ অ্যামি ফ্রেডেরিকসেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস থেকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ফ্রেডেরিকসেন উল্লেখ করেন, ইরান সংকট থেকে কীভাবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গুটিয়ে নেওয়া যায়, বর্তমান প্রশাসনের জন্য এখন সেটি খুঁজে বের করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সাথে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সাথে কংগ্রেসের নীতিনির্ধারকদের সমন্বয়ের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।
বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এই রাজনৈতিক কৌশলবিদ জানান, এ পর্যন্ত ইরানে পরিচালিত বিভিন্ন সামরিক অভিযান বা হামলা নিয়ে ক্যাপিটল হিলে বা কংগ্রেসে জোরালো কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি তোলা হয়নি। অথচ সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই যুদ্ধের সার্বিক তদারকি করা এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব।
ফ্রেডেরিকসেনের মতে, প্রায় সিংহভাগ মার্কিন নাগরিকই ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হিসেবে দেখতে চান না। মূলত তেহরানের পারমাণবিক হুমকির বিষয়টিকেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের অন্যতম প্রধান যৌক্তিক ভিত্তি হিসেবে সামনে এনেছিল প্রশাসন।
তবে বর্তমান প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউস থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে এই সংঘাত খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু বাস্তবে তা না হয়ে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে। তার ভাষায়, সাধারণ মানুষকে বারবার এমন সব তথ্য বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যার সাথে বাস্তব পরিস্থিতির কোনো মিল ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলবিদ দৃঢ়তার সাথে বলেন, নির্বাহী বিভাগের সব কর্মকাণ্ডের সঠিক তদারকি করা এবং প্রয়োজনীয় ও কঠিন প্রশ্নগুলো তুলে ধরা কংগ্রেসের ওপর বর্তায়। আর আসন্ন দিনগুলোতে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের সেই দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত জোরালোভাবে উদ্যোগী হয়ে উঠবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


