যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। মিশিগানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে জয় পেয়েছেন তিনি। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরই করের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন এই নবনির্বাচিত সিনেটর।
আবদুল এল-সায়েদ, জনগণের করের অর্থ অন্য দেশের মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের ওপর বোমা হামলা চালানোর কাজে ব্যয় করা উচিত নয়।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিশিগানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে মাইক রজার্সকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল এল-সায়েদ।
বিজয় ঘোষণার পর দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মহান একটি দেশ, কারণ দেশটি নিজেদের দুর্বলতা আড়াল না করে তা সংশোধনের সাহস রাখে।
মিশিগানের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও সাধারণ নাগরিকদের অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। আবদুল এল-সায়েদ বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা কিংবা গাড়িতে জ্বালানি ভরার মতো সাধারণ কাজ মানুষের জন্য এত কঠিন হওয়ার কথা নয়। একইভাবে বাড়ি কেনার সামর্থ্য অর্জন এবং চিকিৎসকের কাছে যাওয়াও এতটা ব্যয়বহুল হওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও ক্ষমতাধর দেশে কর দেওয়ার পর সেই অর্থ জনগণ ও তাদের সন্তানদের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে। জনগণের দেওয়া অর্থ অন্য দেশের মানুষ ও শিশুদের ওপর বোমা হামলার কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়।
আবদুল এল-সায়েদ ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে মহান হওয়ার চেষ্টা করতে হবে না; বরং যে মূল্যবোধ দেশটিকে মহান করেছে, সেগুলো আরও শক্তভাবে ধারণ করতে হবে। নিজেদের আরও উন্নত করার আকাঙ্ক্ষাই হওয়া উচিত দেশের অগ্রগতির ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সেই লক্ষ্য অর্জনের অর্থ হলো করপোরেশন ও ধনকুবেরদের বিশেষ স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তার অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য পুরো ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের বিপক্ষে পরিচালিত করছে।


