...|...|...

বিশ্ব

নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী অ্যাবার কাওয়াস

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:২৬
Shares
নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী অ্যাবার কাওয়াস

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত  ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাবার কাওয়াস। সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে তিনি পেয়েছেন ৭৫ শতাংশ ভোট। এর মধ্য দিয়ে হিজাব পরিহিত প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ১২ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে নির্বাচিত কাওয়াস যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত ফিলিস্তিনি-আমেরিকানদের তালিকায় নতুন সংযোজন। বিজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমরা ইতিহাস গড়েছি।’

কাওয়াসের নির্বাচনী প্রচারণার মূল স্লোগান ছিল—‘মর্যাদার জন্য অর্থায়ন, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। এর মাধ্যমে তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন এবং সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসীদের সুরক্ষা এবং যুদ্ধের পেছনে সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিরোধিতার বিষয়টিও সামনে আনেন।

কাওয়াস ডেমোক্র্যাটিক সোশালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) সদস্য। গত বছর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে সংগঠনটির সদস্য জোহরান মামদানির জয়ের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডিএসএর প্রভাব ও নির্বাচনী সাফল্য বেড়েছে। এবারের নির্বাচনে সংগঠনটির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কাওয়াস।

তার প্রচারণায় সমর্থন জানিয়েছিলেন মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিবসহ বেশ কয়েকজন প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতা। কাওয়াসের এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফিলিস্তিনপন্থী জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরও প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


রাজনীতিতে নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার আগে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে শ্রমিক অধিকার, অভিবাসী সম্প্রদায় ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন কাওয়াস।

গত মাসে মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ২০২৩ সালে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ইসরায়েলি রাষ্ট্র ও ফিলিস্তিনে দেশটির সামরিক দখলদারিত্বে সহায়তাকারী অর্থায়ন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া একটি কর্মী জোটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

কাওয়াস ও তার সহকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি দাতব্য সংস্থার কার্যক্রম খুঁজে পান। তাদের অভিযোগ, এসব সংস্থা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি-আমেরিকানদের বসতি স্থাপনে পাঠানোর জন্য লাখ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছিল।

এই প্রেক্ষাপটে ‘নট অন আওয়ার ডাইম’ প্রচারণার সূচনা ও বিকাশে ভূমিকা রাখেন কাওয়াস। এর লক্ষ্য ছিল, নিউইয়র্কের অলাভজনক সংস্থাগুলোর অর্থায়নের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা, যাতে তারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বে সমর্থনকারী কোনো সংগঠনকে অর্থ দিতে না পারে।

এমইইকে কাওয়াস বলেন, ‘নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনে এমন কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয় যে, দাতব্য সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত কোনো গোষ্ঠী—যাদের কাজ হওয়ার কথা মানুষের সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা—তারা সেই অর্থ ব্যবহার করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো নৃশংস কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে।’

বিলটি উত্থাপনের উদ্যোগে তৎকালীন নিউইয়র্ক সিটি অ্যাসেম্বলি সদস্য জোহরান মামদানি এবং স্টেট সিনেটর জাবারি ব্রিসপোর্টের সঙ্গে কাজ করেন কাওয়াস। ২০২৩ সালের মে মাসে ব্রিসপোর্ট প্রস্তাবটির খসড়া তৈরি ও উত্থাপনের দায়িত্ব নেন।

তবে আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার মুখে ‘এন্ডিং নিউইয়র্ক ফান্ডিং অব ইসরায়েলি সেটলার ভায়োলেন্স অ্যাক্ট’ নামের প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়নি।

এমইইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাওয়াস বলেন, তৎকালীন অ্যাসেম্বলি সদস্য মামদানির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছিল। রাজনীতিবিদদের প্রতি আগে থেকেই তার একধরনের সংশয় ছিল। কিন্তু মামদানি নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে নিজের অবস্থান কাজে লাগিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যা তাকে অনুপ্রাণিত করে।

কাওয়াসের ভাষায়, ‘আমরা যখন নট অন আওয়ার ডাইম বিলটি উত্থাপন করি, তখন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে এমন উদ্যোগ আগে কখনো নেওয়া হয়নি। ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করবে—এমন কিছু আগে কেউ কখনো স্বতঃস্ফূর্তভাবে সামনে নিয়ে আসেনি।’