...|...|...

বিশ্ব

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের ধোঁয়ায় অসুস্থ ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৫৯
Shares
ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের ধোঁয়ায় অসুস্থ ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা দাবানলের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত আগস্ট থেকে এসব মানুষ বিভিন্ন ধরনের শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন।

বুধবার ( ২৩ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ হাজারের বেশি শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই কাশি, ব্রঙ্কাইটিস থেকে শুরু করে নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছে।

বনভূমির আগুন থেকে তৈরি বিষাক্ত ধোঁয়া বা ধোঁয়াশা ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়িয়ে প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এসব অঞ্চলের বায়ুর মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

দাবানল নিয়ন্ত্রণে বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপে ৫৪ হাজারের বেশি কর্মী এবং বেশ কয়েকটি বিমান মোতায়েন করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। আগুন নেভাতে আকাশ থেকে পানি ফেলার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তবে বিশাল এলাকা এবং পিট-মাটির দুর্গম পরিস্থিতির কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইন্দোনেশিয়ার ক্যাবিনেট সেক্রেটারি টেডি ইন্দ্র বিজয়া বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণ, ধোঁয়ার প্রভাব কমানো এবং জনগণকে সুরক্ষায় স্থল ও আকাশ—দুই পর্যায়েই সব ধরনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের ঘটনা ঘটে। তবে চলতি বছর ‘গডজিলা এল নিনো’র প্রভাবে অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।

স্বাধীন বন পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ‘নুসান্তারা অ্যাটলাস’-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ৭ লাখ ৩৪ হাজার হটস্পট শনাক্ত করা হয়েছে। এ সংখ্যা ২০১৯ সালের ভয়াবহ দাবানল মৌসুমের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৬৪৭ হেক্টর বনভূমি ও জমি পুড়ে গেছে। এর পরিমাণ গ্রেটার লন্ডনের আয়তনের প্রায় ছয় গুণ।

দাবানলের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং হাসপাতালে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর দাবানলজনিত শ্বাসকষ্টে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার ৮৯১ জন, যা ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৬ জনে।

দাবানলের ধোঁয়ায় বন্যপ্রাণীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা ওরাংওটাংও রয়েছে। পশ্চিম কালিমন্তানে ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া একটি ওরাংওটাংকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে সেটি মারা যায়।

এদিকে, দাবানল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে পশ্চিম কালিমন্তানের আদিবাসী ও সুশীল সমাজের কয়েকটি সংগঠন কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, আগুন নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষ অবহেলা করেছে।