ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে পিছিয়ে এখন নভেম্বরে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগের মতোই ধাপে ধাপে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যদিও ভোটের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান এল মাছউদ জানান, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস তুলনামূলক বেশি অনুকূল। তবে দুর্গাপূজা, রমজান, পাবলিক পরীক্ষা এবং বার্ষিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই চূড়ান্ত ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে।
ভোট গ্রহণের কমপক্ষে ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে নির্বাচন শুরু হলেও এর সাথে পৌরসভা নির্বাচনও যুক্ত হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং শেষে ফেরত এলেও, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আইন সংস্কারের সুপারিশ এখনও পাঠানো হয়নি। তাই বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। এর অংশ হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং ভোটের ২৫ দিন আগে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। এছাড়া আগামী ৩১ আগস্ট ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি থাকায় ইসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বৈঠক করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আইজিপি, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালকদের সাথে বৈঠক করে সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন। আবহাওয়া, বন্যা, পূজা ও পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র এবং শিক্ষকদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন- এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সাথে সাক্ষাৎ শেষে তিনি জানান, এই নির্বাচনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আগামী সপ্তাহেই নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক করে তপশিল ও ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৪ হাজার ৫৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২৬টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা এবং তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।



